কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের নামে শুরু হয়েছে কোচিং-প্রাইভেট বাণিজ্য। ২৯৫ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ব্যবস্থা যেখানে হওয়ার কথা, সেখানে নেমে এসেছে কেবল দুইজন শিক্ষকের উপস্থিতি—আর এর মধ্যেই টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষক সংকট, কিন্তু ক্লাস চলছে সীমিত হাতে

প্রায় দেড় মাস ধরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ৮৩ নম্বর চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন গুরুতর অনিয়ম চলার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে বিদ্যালয়ের দুইটি কক্ষে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের ইংরেজি পরীক্ষা চলতে দেখা যায়—চতুর্থ শ্রেণিতে একজন যুবককে এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ডেপুটেশনে থাকা একজনকে দেখা গেছে। এদিকে শিক্ষক দম্পতি বসে থাকেন কার্যালয়ের কক্ষে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও স্ত্রীই দুই শিক্ষক
১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি চরসাদিপুর ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৫ হলেও ৬ শিক্ষকের পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন—ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ ও তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক গোলাপী পারভীন। শিক্ষক সংকটের দোহায় দিয়ে পরে রিয়াদ হোসেন ও মো. আলামিন নামের দুইজনকে পাঠদানের জন্য ভাড়া করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভাড়াটিয়াদের মাধ্যমেই কোচিং-প্রাইভেট
অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক দম্পতির যোগসাজশে ভাড়াটিয়া শিক্ষকরা বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য পরিচালনা করেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ৩০০ টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের তেল বাবদ আরও ২০ টাকা দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগে উঠে এসেছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে ক্ষোভ
সরেজমিনে রিয়াদ হোসেন বলেন, শিক্ষক এখানে নেই—প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিংয়ের প্রসঙ্গও আসে তার কথায়। অন্যদিকে এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ক্লাস শুরু হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই এসে কোচিং করতে হয় এবং মাসে নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করতে হয়। একইভাবে আরেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও ৩০০ টাকা বেতন ও তেল খরচের বিষয়টি উঠে আসে।
দূরত্ব আর যোগাযোগ সমস্যার মধ্যেই প্রশ্ন
পদ্মা নদীর ওপারে দুর্গম চরসাদিপুর ইউনিয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত নয়। উপজেলা ও জেলা শহরের সঙ্গে চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। তবু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা। শিক্ষা কর্মকর্তাদের অজ্ঞাত থাকার বিষয়টিও অভিযোগে জোরালোভাবে এসেছে।
প্রবাসী পরিবারের জন্যও এ ধরনের ঘটনা চিন্তার জায়গা—কারণ সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বাড়লে, ভাতা-আয়ের টানাপোড়েনের মধ্যেই সবচেয়ে আগে আঘাত লাগে দৈনন্দিন বাজেটে। সরকারি স্কুলে শিক্ষার সমান সুযোগ থাকার কথা থাকলেও সেখানে অতিরিক্ত অর্থের চাপ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
প্রশ্ন: ৬ শিক্ষকের পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন কতজন?
উত্তর: মাত্র দুজন।
প্রশ্ন: শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে কত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে?
উত্তর: প্রতিমাসে ৩০০ টাকা।
প্রশ্ন: তেল খরচ বাবদ অতিরিক্ত কত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: আরও ২০ টাকা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









