GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / এলডিসি বিলম্বিত, উত্তরণে মসৃণ পথ খুঁজছে সরকার

এলডিসি বিলম্বিত, উত্তরণে মসৃণ পথ খুঁজছে সরকার

এলডিসি উত্তরণ ও বাণিজ্য পরিকল্পনা সংক্রান্ত ধারণামূলক চিত্র

এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

এলডিসি উত্তরণ ও বাণিজ্য পরিকল্পনা সংক্রান্ত ধারণামূলক চিত্র

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ কার্যকর করতে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ চলছে। তবে দায়িত্বে আসার পরপরই সামনের পথে কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান সরকার। শেষ তিন বছরে দেশ পরিচালনা করেছে তিনটি সরকার; তাদের মধ্যে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে অবস্থান ছিল ভিন্ন ভিন্ন।

সর্বশেষ বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে।

কেন প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার

সরকার বলছে, উন্নয়নশীল দেশের অবস্থান থেকে উত্তরণের সময় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা জরুরি। পাশাপাশি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো যেন টেকসইভাবে মোকাবিলা করা যায়—এমন পরিকল্পনা দরকার। কারণ উত্তরণের ফলে শুল্ক বঞ্চিত হলে কোনো খাত হঠাৎ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তাই তিন বছর পিছিয়ে গেলে একটি মসৃণ উত্তরণের পথ তৈরি হবে বলে সরকারের অবস্থান। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে তারা পদক্ষেপ নিতে চায়।

২০৩১ পর্যন্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশের সক্ষমতা শক্ত করতে পাঁচ বছর মেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষায়, লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গতিশীল করা এবং জনসংখ্যার মাথাপিছু আয় বাড়ানোর মতো উদ্যোগ।

পরিকল্পনাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’। এর আওতায় উত্তরণকে কেন্দ্র করে এমন এক কাঠামো দাঁড় করাতে চাওয়া হচ্ছে, যাতে পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিবর্তনে ঝাঁকুনি না লাগে।

নির্ধারিত সময় থেকে নতুন সময়সীমা

মূলভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর। কিন্তু বিএনপি সরকার ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)-এর কাছে প্রস্তুতির সময় তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ জানায়। পরে এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়।

সরকারের দাবি, প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়। বরং ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার সুসংহত করা, সুশাসন জোরদার করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার জন্য সময় নিশ্চিত করা।

কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও বলা হচ্ছে

এই প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা এসেছে। শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে কি না—সেই দিকেই এখন নজর।

প্রবাসী পাঠকদের জন্য দুটি প্রশ্ন

এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে গেলে প্রবাসী আয়ের উপর প্রভাব পড়তে পারে?
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখে ঝুঁকি কমানো—তাই তাৎক্ষণিক ধাক্কা এড়াতেই প্রস্তুতি।

এই ‘স্মুথ ট্রানজিশন’ পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে?
পরিকল্পনাগুলো বিনিয়োগ, রপ্তানি ও আয়ের মতো সূচকে গতি আনতে কাঠামোগত সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত—বাস্তবায়নের অগ্রগতি নির্ভর করবে সময়মতো পদক্ষেপের উপর।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons