GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিশেষ খবর / হাইকমিশনের খবর: ৬৪ লাখ রিঙ্গিত ক্ষতিপূরণ আদায়

হাইকমিশনের খবর: ৬৪ লাখ রিঙ্গিত ক্ষতিপূরণ আদায়

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনস্যুলার সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের একটি প্রতিনিধিত্বমূলক দৃশ্য

মালয়েশিয়ায় আইনি জটিলতা, শ্রম বিরোধ ও অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় পড়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা এসেছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ৬৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সুবিধা আদায় করা হয়েছে—যা প্রবাসীদের ভোগান্তি কমিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করছে।

ট্রাভেল পাসে দ্রুত দেশে ফেরার প্রক্রিয়া

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনস্যুলার সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের একটি প্রতিনিধিত্বমূলক দৃশ্য

হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ৬ হাজার ৮৫৩টি ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক ১ হাজার ৩১৯ জন বাংলাদেশিকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হয়। ভ্রমণ নথির ঘাটতির কারণে যারা দেশে ফিরতে পারছিলেন না, তাদের জন্য এই সহায়তাই সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সুরাহা।

অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং দ্রুত ট্রাভেল পাস ইস্যুর মাধ্যমে ফেরার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

কারাগার ও ডিটেনশন ক্যাম্পে কনস্যুলার সেবা

প্রবাসীদের মানবিক দিকটি গুরুত্ব দিয়ে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। প্রথম ছয় মাসে মোট আটটি কারাগার ও ১৩টি ডিটেনশন ক্যাম্প পরিদর্শন করে আটক বাংলাদেশিদের কনস্যুলার ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

মৃত প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠাতে সহায়তা

মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারি খরচে ১৩ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তা, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও স্বজনদের অর্থায়নে আরও ৫৮৪ জনের মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও আইনি সহায়তা দিয়েছে হাইকমিশন। পুরো প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।

শ্রম বিরোধ ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে জোর

শ্রম বিরোধ, বকেয়া বেতন, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, অভিবাসন আইনসংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন সমস্যায় থাকা প্রায় ৪০০ জন বাংলাদেশি প্রবাসীকে কনস্যুলার ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিগুলো বাস্তবায়নের দিকে এগিয়েছে।

হাইকমিশনের তথ্যমতে, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার নিষ্পত্তি, কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং অন্যান্য দাবির বিপরীতে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৬৬৭ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত কনডোলেন্স মানি আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও স্থায়ী অক্ষমতার ঘটনায় মালয়েশিয়ার সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা থেকে ৫৮ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮ রিঙ্গিত ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ৬৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮ রিঙ্গিত ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পেরেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন—যেখানে মালয়েশিয়ার সরকারি সংস্থা, নিয়োগকর্তা ও আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য এর মানে কী

এ ধরনের উদ্যোগে কেবল মামলা বা কাগজপত্রের কাজ এগোয় না; দ্রুত কনস্যুলার সহায়তা, নথি প্রক্রিয়ায় গতি এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের বাস্তব ফল পাওয়া যায়। প্রবাসী পরিবারের জন্য নিরাপত্তা, পাওনা আদায় এবং প্রিয়জনের শেষ যাত্রা—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে।

কয়েকটি প্রশ্ন

ট্রাভেল পাস কারা পেতে পারে?
ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক এবং ভ্রমণ নথির অভাবে দেশে ফিরতে না পারা প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও দ্রুত ট্রাভেল পাস দেওয়ার কার্যক্রম আছে।

ক্ষতিপূরণ কীসের ভিত্তিতে আদায় হয়?
বকেয়া বেতন, শ্রম বিরোধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, মৃত্যুসংক্রান্ত দাবি এবং ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা—এগুলোর বিপরীতে আদায় করা হয়েছে।

মৃত প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানো হয় কীভাবে?
সরকারি খরচে এবং নিয়োগকর্তা-স্বজনদের অর্থায়নে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও আইনি সহায়তা দিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons