GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রবাসের খবর / খবরের কাগজের শিরোনাম: অ্যারোফম শ্রমিকদের পাশে মালয়েশিয়া হাইকমিশন

খবরের কাগজের শিরোনাম: অ্যারোফম শ্রমিকদের পাশে মালয়েশিয়া হাইকমিশন

মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং এলাকায় শ্রমিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রতীকী চিত্র

বেতন বকেয়া ও ভিসা জটিলতায় মানবিক দুর্ভোগে পড়া মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরের পোর্ট ক্লাং এলাকার অ্যারোফম ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে মালয়েশিয়া হাইকমিশন। অভিযোগ শোনার পর থেকে একাধিক বৈঠক ও তদারকির মাধ্যমে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টায় রয়েছে তারা।

বেতন না পেয়ে খাদ্য সংকট, হাইকমিশনের মানবিক সহায়তা

মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং এলাকায় শ্রমিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রতীকী চিত্র

হাইকমিশন সূত্র বলছে, গত ৩ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে শ্রমিকরা একাধিক অভিযোগ জানান। অভিযোগে বলা হয়, প্রায় একশো দশ জন শ্রমিক টানা তিন মাস বেতন পাননি। বেতন না থাকায় আবাসস্থলে খাদ্যসংকট দেখা দিলে হাইকমিশন মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে।

গত ২০ জুন হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল শ্রমিকদের আবাসস্থলে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে। একই সঙ্গে বেতন নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ সম্ভব না হলে খাবার ও মৌলিক চাহিদা পূরণে জনপ্রতি সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধও দেওয়া হয়।

ভিসা নবায়ন ও পাসপোর্ট জিম্মির অভিযোগ

শ্রমিকদের অন্য অভিযোগের মধ্যে ছিল—২৭ জনের ভিসা নবায়ন করা হয়নি, এবং অনেকের পাসপোর্ট কোম্পানি আটকে রেখেছে। পাশাপাশি আবাসস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় দৈনন্দিন জীবনও চরম দুর্ভোগে পড়ে বলে জানান তারা।

ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, কোম্পানির প্রতিশ্রুতি

অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত সমাধানে কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে হাইকমিশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ জুন হাইকমিশনে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কোম্পানির একজন পরিচালকসহ তিনজন প্রতিনিধি, শ্রমিকদের পক্ষে পাঁচজন প্রতিনিধি এবং হাইকমিশনের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে কোম্পানি ৩০ জুনের মধ্যে শ্রমিকদের সব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে পরে ১১ জুন পাঠানো লিখিত প্রতিশ্রুতিপত্রে জানানো হয়, বকেয়া বেতন পরিশোধে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

কাজ এগোলেও চিঠি-পাল্টা চাপ অব্যাহত

কোম্পানি তাদের লিখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করায় বাংলাদেশ হাইকমিশন বিষয়টি মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নজরে আনে। দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়। এরপর ২২ জুলাই কোম্পানিকে আবারও ই-মেইলের মাধ্যমে বকেয়া বেতন পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়।

শ্রম বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি এগিয়ে নিতে ২৭ জুলাই পোর্ট ক্লাংয়ের শ্রম বিভাগ কার্যালয়ে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করে। সেখানে শ্রমিকদের দায়ের করা মামলার অগ্রগতি, অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক সমস্যা সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রম বিভাগ জানায়, সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে এবং কোম্পানিও নীতিগতভাবে শ্রমিকদের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরে সম্মতি দিয়েছে।

মানবিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে হাইকমিশন সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ ২৯ জুলাইও পোর্ট ক্লাং এলাকায় শ্রমিকদের জন্য সহায়তা কার্যক্রম চালাতে প্রতিনিধি দল যায় বলে জানানো হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

বেতন বকেয়া আর পাসপোর্ট জিম্মি—প্রবাসী কর্মীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এসব বিষয়ের দ্রুত সমাধানের ওপর। হাইকমিশনের তদারকি তাই শ্রমিকদের নগদ সংকট কমানো ছাড়াও তাদের আইনগত ও কর্মপরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশি শ্রমিকদের কী কী অভিযোগ ছিল?
বেতন বকেয়া, ভিসা নবায়ন না করা, পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং আবাসস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ আসে।

হাইকমিশন কীভাবে সহায়তা করেছে?
মানবিক সহায়তা দিয়েছে এবং কোম্পানি, শ্রম বিভাগ ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানে কাজ করেছে।

কোম্পানি বেতন নিয়ে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল?
বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে সময়ের উল্লেখ করে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, পরে সেটি বাস্তবায়নে চাপও দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons