রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও দলীয়করণ চলছে—এ অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।
৭০ অনুচ্ছেদে স্বাধীন ভোটের সুযোগ নেই

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ না থাকলে এবং সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে রাষ্ট্রপতি পদটি আরও বেশি সম্মানিত হতো। তিনি যুক্তি দেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় বাস্তবে নির্বাচনটা প্রতিযোগিতামূলক হতে পারছে না।
প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেই রাষ্ট্রপতি বাছাই
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণ করছে। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও কার্যত দলীয় প্রার্থীর মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করছেন। এ অবস্থায় স্বাধীন ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি জোর দেন।
সরকারের সংস্কার উদ্যোগে আস্থাহীনতা
নাহিদ ইসলাম এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও কাজের ক্ষেত্রে আগের ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হচ্ছে, ফলে স্বৈরতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাই টিকে আছে।
জোটভিত্তিক প্রার্থীতে নির্বাচনে বার্তা
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তাঁরা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সরকার কোনো সংস্কার না করলেও তাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছেন। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা তৈরি ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং সরকারি দল যেন এককভাবে তাদের প্রার্থী নির্ধারণ করতে না পারে—এ উদ্দেশ্যেই তারা অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন নাহিদ।
পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসী ভোটারদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ধরন ও ক্ষমতার ভারসাম্য ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। স্বাধীন ভোটের সুযোগ না থাকলে গণতান্ত্রিক চর্চা কতটা জোরদার হচ্ছে—তা নিয়েই এই বক্তব্য সরাসরি প্রশ্ন তুলছে।
প্রশ্নোত্তর
নাহিদ ইসলাম কেন ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে কথা বলেছেন?
তিনি বলেছেন, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না।
নাহিদের অভিযোগের মূল বিষয় কী?
তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও দলীয়করণ হচ্ছে এবং স্বাধীন ভোটের সুযোগ বাস্তবে সীমিত।
এনসিপি কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে?
প্রতিযোগিতা তৈরি, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং সরকারি দল যেন এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে—এই উদ্দেশ্যকে তিনি সামনে এনেছেন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









