জনগণের অর্থ লোপাট যেন বন্ধ করা যায়—এই লক্ষ্যেই প্রকল্পের সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারের “সর্বাত্মক চেষ্টা” চলছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ব্যয় ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও কড়া করা হচ্ছে।
প্রকল্পে সময় বাড়া মানেই ব্যয় বাড়া

সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্প যত দেরিতে চলে, খরচও তত বাড়ে। তাই বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে সময় কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রকল্প আটকে যাওয়ার পেছনে জমি অধিগ্রহণ, অটোমেশনজনিত জটিলতা কিংবা নিয়োগ–সংক্রান্ত সমস্যাও কাজ করে—এ বিষয়গুলো প্রক্রিয়ায় আরও দ্রুততার সঙ্গে আনতে কাজ করা হচ্ছে।
পর্বভিত্তিক সময় কমাতে ব্যবস্থা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের পথ ও স্তরগুলো ধরে ধরে কীভাবে সময় কমানো যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রতিটি পর্বে সময় কমানোর লক্ষ্যে পুরো প্রক্রিয়াটাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
জনগণের মঙ্গলে কর্মসূচিভিত্তিক সাজানো প্রকল্প
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, প্রকল্পগুলোকে আগে বিচ্ছিন্নভাবে নেওয়া হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। তাই পুরো পরিকল্পনাটা নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা চলছে। মন্ত্রণালয়গুলোর নির্বাচনি ইশতেহারভিত্তিক কাজ যাতে আরও সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়, সেজন্য প্রকল্পগুলোকে ‘কর্মসূচিভিত্তিক একগুচ্ছ প্রকল্প’ হিসেবে নির্ধারণের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ফ্ল্যাগশিপ কাজগুলো বড় আকারে বাস্তবায়নের দিকে
তিনি বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম সাহেবদের ভাতা, স্বাস্থ্য খাতের কাজ এবং খাল খননসহ নানা উদ্যোগ—শুরুতে পাইলট আকারে থাকলেও বাজেট ঘোষণার পর বড় পরিসরে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এগুলো শিগগির মাঠে নামবে বলেও প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
অর্থনীতির কৌশলপত্রও বাস্তবায়নে কাজে লাগছে
প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে একটি পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলপত্র তৈরি হয়েছে। সেই কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেক্টর প্ল্যান ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক প্রকল্পগুলো পুনঃসজ্জিত করার কাজ চলছে।
জ্বালানি খাতে আত্মনির্ভর নীতি—দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা
সাক্ষাৎকারের অন্য অংশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে এবং জ্বালানি খাতকে এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধরা হচ্ছে। আমদানিনির্ভর নীতি থেকে বেরিয়ে আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতির দিকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন।
প্রবাসী পাঠকের জন্য অর্থ কী? প্রকল্পে সময়–ব্যয় নিয়ন্ত্রণ হলে জনগণ দ্রুত সেবা পেতে পারেন—কাজের সুফল বাস্তবে দেখা যায়। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সসহ দেশের অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা মানে আরও স্থিতিশীল উন্নয়ন।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রকল্পের সময় কমানোর উদ্যোগ মানে কী? প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে বিলম্ব হলে সেটাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
কেন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে? সময় বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে—এই যুক্তিতে সময় কমানোকে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচিগুলো কখন বাড়বে? বাজেট ঘোষণার পর বড় আকারে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









