সৌদি আরবের নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবইয়ের ভাষা ও মানচিত্র বদলে দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এতে ‘জেরুজালেম’ ও ‘ফিলিস্তিন’–কেন্দ্রিক যে উপস্থাপনাগুলো ছিল, সেগুলোর কিছু অংশ নতুন সংস্করণে আর থাকছে না। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সৌদিতে দৈনন্দিনভাবে পড়াশোনার পরিবেশের সঙ্গে শিক্ষাবই সরাসরি যুক্ত।
‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্য বাদ

ইমপ্যাক্ট-সের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ২০২৪-২৬ শিক্ষাবর্ষের কর্মসূচিতে একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার বই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’—এমন একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, আগের সংস্করণে থাকা এই বাক্যটি জেরুজালেমকে মুসলিম ও অন্য গোষ্ঠীর মধ্যকার চলমান সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে দেখাতে পারে।
মানচিত্রে ফিলিস্তিন নামও নেই
পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, আগের কিছু পাঠ্যবইয়ে মানচিত্রে ইসরায়েলের নাম না দিয়ে পুরো ভূখণ্ডকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ওই মানচিত্র থেকে ‘ফিলিস্তিন’ নামটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন মানচিত্রে ইসরায়েলের নামও যুক্ত করা হয়নি।
‘ইহুদিবাদী শত্রু’ বদলে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’
ইমপ্যাক্ট-সে বলেছে, একাদশ শ্রেণির ইতিহাসের একটি বইয়ে ‘ইহুদিবাদী শত্রু’ শব্দগুলোর জায়গায় ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ইসরায়েলবিরোধী ভাষার তীব্রতা কিছুটা কমেছে বলে সংস্থাটির মূল্যায়ন। তবে তারা উল্লেখ করেছে—‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’কে যদি পুরো ইসরায়েল রাষ্ট্র বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা দেশটির স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থানই প্রতিফলিত করতে পারে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ইসলামবহির্ভূত বিশ্বাসে কিছু কাটছাঁট
পর্যালোচনায় আরও এসেছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ইসলামবহির্ভূত বিশ্বাস নিয়ে কিছু বিষয় নতুন সংস্করণে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের একটি বইয়ে অমুসলিমদের পরকালে শাস্তি পাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া একটি কোরআনের আয়াত সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। এর বদলে ইসলামকে সত্য ধর্ম হিসেবে তুলে ধরা অন্য একটি আয়াত যুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অসুস্থ এক ইহুদি বালককে দেখতে যাওয়ার একটি হাদিসও বাদ দেওয়ার তথ্য আছে। ইমপ্যাক্ট-সে এটিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বেশি গ্রহণযোগ্যতার ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেছে। একই সঙ্গে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত কিছু বিষয় বাদ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সহাবস্থান-ভিত্তিক বার্তায় জোর
সংস্থাটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সৌদি শিক্ষাক্রমে সামগ্রিকভাবে শান্তি, সহাবস্থান ও সহনশীলতার ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রবাসী পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বই নিয়ে এমন পরিবর্তন তাদের স্কুলজীবন ও পাঠ্যাভ্যাসে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশ্নোত্তর
‘সৌদি পাঠ্যবইয়ে’ ঠিক কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?
জেরুজালেম–সংক্রান্ত একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে এবং মানচিত্র থেকে ‘ফিলিস্তিন’ নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মানচিত্রে নতুন করে ইসরায়েলের নাম এসেছে কি?
পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নামও নতুন সংস্করণে দেওয়া হয়নি।
ধর্মীয় বিষয়েও পরিবর্তন আছে কি?
হ্যাঁ, ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের কিছু আয়াত ও কিছু বর্ণনা বাদ দেওয়ার কথা এসেছে পর্যালোচনায়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









