কলকাতার নিউমার্কেট চত্বরে ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরানো হবে আগামী শনিবার। উপ-হাইকমিশনের তথ্যানুযায়ী, সব ঠিকঠাক থাকলে ২২ আগস্ট মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কয়েকজনকে আগে হস্তান্তর, বাকি সাতজন আটকে মেডিকেল মর্গে

দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে বাকি সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ এখন কলকাতার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সংরক্ষিত আছে।
২২ আগস্ট মরদেহ ফেরাতে প্রস্তুতি
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী শনিবার বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য এটি এখনই স্বস্তির বার্তা—কারণ স্বজনদের শেষ বিদায় নিশ্চিত করতে সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
খরচ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার
উপ-হাইকমিশনের সূত্র আরও বলেছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে মরদেহ আনার খরচ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। এতে পরিবারের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
সীমান্ত রুটও ঠিক করা হয়েছে
সাতক্ষীরার বাসিন্দাদের মরদেহ ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে আনা হবে। আর বাকিদের মরদেহ গেদে-দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। এর ফলে কোন পরিবারের সদস্য কোন এলাকায় ফিরবেন, সেটিও তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পটভূমি: ফায়ার লাইসেন্স না থাকা, বের হওয়ার পথ বন্ধ
গত বুধবার ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট চত্বরে ১৫ বি মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্র এখনো পলাতক।
প্রাথমিক তদন্তে কলকাতা পুলিশ ও দমকলের পক্ষ থেকে জানা যায়, হোটেলটিতে ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে কোনো অডিটও করা হয়নি। পাশাপাশি দেওয়াল তুলে ইমার্জেন্সি গেট দিয়ে বের হওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
কাতারে অবস্থানকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেকের আত্মীয়-স্বজন কলকাতার ওই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মরদেহ ফেরত আসার সময় ঘনিয়ে এলেই পরিবারগুলো দ্রুত শোক কাটিয়ে শেষ কর্ম সম্পন্ন করার সুযোগ পাবে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
কবে দেশে ফেরত যাবে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ?
সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী শনিবার, ২২ আগস্ট।
দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ কী অবস্থায় আছে?
ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে মরদেহ আনা হবে কীভাবে?
সাতক্ষীরার মরদেহ ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা দিয়ে, বাকিদের মরদেহ গেদে-দর্শনা দিয়ে আনা হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









