ঝিনাইদহে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বললেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন নয়—পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এতে মেধাবী তরুণেরা মাঠেই ভবিষ্যৎ খুঁজে পাবে, আর মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকার পথও শক্ত হবে।
খেলাকে পেশা বানানোর আহ্বান

শনিবার বিকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করে আনার উদ্যোগ চলছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট যুক্ত করার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তাঁর বক্তব্যে মূল জোর ছিল—খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল পথে রাখা। খেলাধুলাকে পেশা করা গেলে নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধও খেলাধুলার ভেতর দিয়ে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার কথাও বলেন তিনি।
৫ বছরে নতুন বিপ্লবের পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব আনতে চান। বিগত বছরগুলোয় ক্রীড়াখাতে অব্যবস্থাপনা ও ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গও টেনে তিনি বলেন, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও গৌরব ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর।
স্পোর্টস ভিলেজ, আধুনিক স্টেডিয়াম ও মাঠ নির্মাণ
আমিনুল হক আরও জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের ১০টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহে একটি স্পোর্টস ভিলেজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ঝিনাইদহের বর্তমান স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ গ্যালারিসহ আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের একাধিক ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির লক্ষ্যেও কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান।
আন্তর্জাতিক সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস অবকাঠামো
নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের ৬৪টি জেলায় আন্তর্জাতিক সুবিধাসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়ামসহ স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরে ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফাইনালে উচ্ছ্বাস, মাঠজুড়ে দর্শক
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন ও আরও কয়েকজন বক্তব্য দেন। টুর্নামেন্টের ফাইনালে লাইফওয়ে ক্লাব, ঝিনাইদহ ৩-২ গোলে কুষ্টিয়ার ওয়ান্ডার্স ক্লাবকে পরাজিত করে শিরোপা লাভ করে। খেলাটি দেখতে স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল; গ্যালারিতে জায়গা না পেয়ে মাঠেও বসে শিক্ষার্থীরা খেলা উপভোগ করেন।
প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের কাছেও এই ধরনের উদ্যোগের বার্তা গুরুত্বপূর্ণ—কারণ ক্রীড়ার সুযোগ বাড়লে এলাকায় দক্ষতার মূল্য তৈরি হয়, নতুন কর্মসংস্থান ও উন্নতির পথ তৈরি হয়। আর তরুণদের নিয়মিত খেলায় সম্পৃক্ত রাখতে পারলে দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও ইতিবাচক অভ্যাসও জোর পায়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে।
ফাইনালে কোন দল শিরোপা জেতে?
লাইফওয়ে ক্লাব, ঝিনাইদহ ৩-২ গোলে কুষ্টিয়ার ওয়ান্ডার্স ক্লাবকে হারিয়ে শিরোপা জেতে।
প্রতিমন্ত্রী মূলত কী লক্ষ্য বলেন?
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com






