বিশ্বশান্তি টিকিয়ে রাখতে মানবিক সর্বজনীন দর্শন জরুরি—এ কথা জোর দিয়ে বলেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সমস্যার দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে না পারলে সংকটের সমাধানও টেকে না।
ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রীর বার্তা

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
‘আমি কোথা থেকে এসেছি’ প্রশ্ন থেকেই দর্শন
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জীবনধারণের মৌলিক সংগ্রামের বাইরে চিন্তা করার অবকাশ তৈরি হলে মানুষ নিজের উৎস ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তোলে। সেই অনুসন্ধান ধারাবাহিকভাবে দর্শনের জন্ম দেয়। এরপর দর্শন পরবর্তীতে বিভিন্ন ধর্মে দর্শনচর্চার বড় ক্ষেত্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পায়।
সব ধর্মেই মানবকল্যাণ, ব্যাখ্যায় ভিন্নতা
তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মেই মানবকল্যাণের শিক্ষা রয়েছে। তবে ব্যাখ্যা ও মতধারার ভিন্নতায় দার্শনিক বৈচিত্র্য তৈরি হয়। সনাতন ধর্মে যেমন নানা দর্শনের বিকাশ আছে, তেমনি ইসলামেও চিন্তাধারা ও ব্যাখ্যার নানা ধারা দেখা যায়—এই বাস্তবতা দেখায় দর্শনচর্চা সমাজে একটি চলমান, বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া।
দর্শন বদলালে সংকটের সমাধানও বদলায়
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর যে কোনো সংকটের সমাধান অনেকাংশেই নির্ভর করে সমস্যাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। যে ব্যক্তি বা সমাজ মানবিক দর্শন ধারণ করে, তারা সংকটের গঠনমূলক সমাধান খোঁজে। আর সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বিভাজন ও সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
চিন্তাশীলদের জন্য অভিন্ন দার্শনিক প্ল্যাটফর্ম
বিশ্বব্যাপী শান্তির যে সংকট চলছে, সেটি মোকাবিলায় চিন্তাশীল মানুষদের মধ্যে একটি অভিন্ন দার্শনিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার কথাও বলেন তথ্যমন্ত্রী। মানবতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে একটি সর্বজনীন দর্শনের গুরুত্বের কথাই তিনি তুলে ধরেন।
প্রবাসী পাঠকদের জন্যও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ—দৈনন্দিন জীবনে ধর্ম-ভাষা-পটভূমির বৈচিত্র্যের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলা যায় মূলত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। সংকটের সময় সেখানে সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের ভূমিকা আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: তথ্যমন্ত্রী কোন ধরনের দর্শনের ওপর জোর দিয়েছেন?
উত্তর: মানবতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধভিত্তিক সর্বজনীন মানবিক দর্শনের ওপর।
প্রশ্ন: কেন বিশ্বশান্তির জন্য দর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হলো?
উত্তর: সমস্যাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে না পারলে সংকটের সমাধানও টেকসই হয় না।
প্রশ্ন: অনুষ্ঠানের আয়োজন কে করেছে?
উত্তর: বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









