নতুন আইসিএমএস নির্দেশনায় বড় পরিবর্তন

বাংলাদেশ ব্যাংক ইন্টারনাল কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (আইসিএমএস) নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও কমপ্লায়েন্সবিষয়ক নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। ফলে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আসছে।
গোপনভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে পারবেন নিরীক্ষকরা
নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দুর্নীতি কিংবা গুরুতর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষকরা সেই তথ্য গোপনীয়ভাবে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমতির প্রয়োজন থাকবে না।
এমন শর্ত নির্ধারণের উদ্দেশ্য স্পষ্ট—নিরীক্ষা কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রভাব খাটিয়ে তথ্য চেপে রাখার সুযোগ কমানো। নির্ধারিতভাবে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে তথ্য জানাতে হবে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি বিভাগে।
নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আলাদা হবে
নতুন নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করার কথা বলা হয়েছে। আগে একই কর্মকর্তা নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করলেও এখন থেকে দুটি বিভাগের প্রধান আলাদা হবেন এবং সমমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া হেড অব ইন্টারনাল অডিটকে সরাসরি পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। ফলে নিরীক্ষা কার্যক্রম আরও স্বাধীনভাবে পরিচালনার পথ তৈরি হচ্ছে।
হুইসেলব্লোয়ার ও অভিযোগ ব্যবস্থায় জোর
নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যাংককে অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে—হটলাইন, ই-মেইল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সিলগালা লিখিত অভিযোগ গ্রহণের মাধ্যমে। অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার কথা আছে। প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে বেনামি অভিযোগও তদন্ত করতে হবে।
অভিযোগকারীকে হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেই ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি ফরেনসিক, কনকারেন্ট ও ভার্চুয়াল অডিট চালুর কথাও এসেছে, অর্থাৎ নজরদারি ব্যবস্থায় নানা পদ্ধতি যুক্ত হচ্ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও বাস্তবায়নের সময়সীমা
নতুন নির্দেশনায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থপাচার, ঋণ ও সাইবার ঝুঁকি এবং জালিয়াতি শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব তফসিলি ব্যাংককে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পরিবর্তন সম্পন্ন করে নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি পাঠকদের দিকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা জোরদার হলে গ্রাহকসেবার ভরসা এবং আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
প্রশ্ন-উত্তর
প্র: নতুন নির্দেশনায় হুইসেলব্লোয়ার ব্যবস্থার সুযোগ কী?
উ: ব্যাংকের ভেতরের কেউ দুর্নীতি বা গুরুতর অনিয়মের তথ্য গোপনভাবে জানাতে পারবেন। নিরীক্ষকরা প্রয়োজনে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকেও তথ্য দেবেন।
প্র: পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি কি লাগবে?
উ: না। গুরুতর অনিয়ম বিষয়ে নিরীক্ষকদের গোপন তথ্য পাঠাতে পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার অনুমতির প্রয়োজন থাকবে না।
প্র: বাস্তবায়নের সময়সীমা কত?
উ: আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সাংগঠনিক পরিবর্তন সম্পন্ন করে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









