আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ২০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন দেশটির অধিনায়ক।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের প্রায় ছয় সপ্তাহ পর এই সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি।
সম্প্রতি মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা যান।
এরপর অবসরের সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় হন এই ফুটবল তারকা।
মেসি জানান, ফাইনালের দুদিন পর ২১ জুলাই তিনি বিদায়ী বার্তা লিখে রেখেছিলেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর সেই সিদ্ধান্তেই অটল থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিদায়ী বার্তায় মেসি বলেন, জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।
তবে এটিই বিদায় জানানোর সঠিক সময় বলে মনে করেন তিনি।
আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন বলেও জানান মেসি।
তিনি বলেন, ফুটবলের মাধ্যমে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে তিনি সবসময় লড়াই করেছেন।
মেসি আরও বলেন, জাতীয় দলের হয়ে তার যা দেওয়ার ছিল, সবই দিয়ে ফেলেছেন।
এখন দলে উঠে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেসি।
গত ২০ বছর ধরে পাওয়া ভালোবাসার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
মাঠ থেকে সমর্থকদের উল্লাস আর শুনতে না পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে জাতীয় দলের সমর্থন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না তিনি।
মাঠের বাইরে থেকেও ভালো সময়ে এবং খারাপ সময়ে আরও বেশি করে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেছেন মেসি।
পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও দলের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তাদের সঙ্গে পাওয়া অসংখ্য স্মৃতি নিয়েই বিদায় নেওয়ার কথা বলেন এই কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপসহ একাধিক বড় শিরোপা জয়ের কথাও তার বিদায়ী বার্তায় উঠে এসেছে।
সবশেষে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি লেখেন, ‘ভামোস আর্জেন্টিনা!’
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পরই অবসরের বার্তা লিখেছিলেন মেসি।
তবে বাবার মৃত্যুর পর সিদ্ধান্তটি আরও নিশ্চিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
এবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দুই দশকের ঐতিহাসিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।


