GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / মা জীবিত, তবুও ‘মৃত’ দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি করল ছেলে

মা জীবিত, তবুও ‘মৃত’ দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি করল ছেলে

মা জীবিত, তবুও ‘মৃত’ দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি করল ছেলে

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জুয়ার দেনা মেটাতে জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশানপত্র ব্যবহার করে জমি বিক্রির এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওই গ্রামের মৃত জমসেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল

জানা গেছে, আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে জুয়ায় আসক্ত। জুয়ার দেনা পরিশোধের জন্য তিনি তার মা রহিমা খাতুনের পৈতৃক জমির দিকে নজর দেন। কিন্তু জীবিত মা জমি বিক্রি করতে রাজি হবেন না বুঝতে পেরে তাকে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রির পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ।

ঘটনা অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রহিমা খাতুনকে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের কাছে বিক্রি করে দেন জলিল। সম্প্রতি মজিবুর লোকজন নিয়ে ওই বাড়ি, পুকুর ও পানের বরজ দখলে নিতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এরপর ভুক্তভোগী পরিবার নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ১১৫৪ ও ১১৫৫ নম্বর দলিলের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করে। সেখানেই কথিত জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।

দলিলের তথ্য অনুযায়ী, একই গ্রামের হোসেন মিয়া সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। আর দলিলটি সম্পাদন করেছেন ঝন্টু সরকার নামের এক দলিল লেখক।

ঘটনার সত্যতা দেখতে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, যাকে দলিলে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করা হয়েছে, সেই রহিমা খাতুন জীবিত এবং বাড়ির সামনেই বসে আছেন

ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমি অহনও মরছি না, জলিল কেরে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।’

রহিমার ছোট ছেলে অলি মিয়া এবং জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, জুয়াড়ি চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে জলিল একের পর এক জমি বিক্রি করেছেন। তাদের প্রশ্ন, মা জীবিত থাকা অবস্থায় তার নামে ভুয়া মৃত্যু সনদ কে দিল এবং সেই সনদ যাচাই না করেই কীভাবে জমির দলিল নিবন্ধন করা হলো?

এদিকে দলিল লেখক ঝন্টু সরকার বলেন, তাকে দেওয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশানপত্র দেখেই তিনি দলিল করেছেন। এসব কাগজপত্র যাচাই করার দায়িত্ব তার নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, জীবিত রহিমা খাতুনকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া মৃত্যু সনদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশানপত্র তিনিই দিয়েছিলেন। তবে এভাবে দেওয়া ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করে বিষয়টি দেখার কথা জানান তিনি।

ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জীবিত একজন নারীকে সরকারি নথিতে মৃত দেখিয়ে তার বসতভিটা ও জমি বিক্রির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Social Icons