শীত আসতে এখনো প্রায় এক মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। ভোরে কুয়াশা, ঘাসে শিশির আর হিমেল বাতাস জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের আভাস। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ভোর হওয়ার আগেই কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা। মধ্যরাতের পর থেকে ঘাসে জমছে শিশির। সকালে সূর্যের তাপ বাড়লে ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে। তবে ভোররাতে গ্রামাঞ্চলে ঠান্ডার অনুভূতি বেশি থাকছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত পঞ্চগড়ে সাধারণত দেশের অনেক এলাকার তুলনায় আগে শীতের প্রভাব দেখা যায়। একই কারণে এ অঞ্চলে শীতের স্থায়িত্বও তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তা এবং বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিন আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে পঞ্চগড়ে বৃষ্টি হয়। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে আসে।
বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরলেও রাতের তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হয়নি। ফলে ভোররাতে গ্রামাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। মধ্যরাতের পর অনেক জায়গায় ফ্যান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির কারণে সকাল ৯টা পর্যন্তও কুয়াশা দেখা যাচ্ছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা করিম উদ্দীন জানান, ফজরের নামাজ পড়াতে ভোরে মসজিদে যাওয়ার সময় ঘন কুয়াশা দেখা যায়। তবে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় কুয়াশা কমতে শুরু করে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি বলেন, এখনো শরৎকাল চলছে। শীতকাল শুরু হতে আরও প্রায় এক মাস বাকি। হেমন্তের শেষ দিকে তাপমাত্রা আরও কমতে শুরু করবে এবং শীতের অনুভূতি বাড়বে।








