GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / আইফোন নাকি ৫ হাজার টাকার বিরোধ, অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে কী?

আইফোন নাকি ৫ হাজার টাকার বিরোধ, অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে কী?

আইফোন নাকি ৫ হাজার টাকার বিরোধ, অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে কী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অপ্রতিম এক কিশোরকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সম্প্রতি টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। তবে এই বিরোধ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার তথ্য

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের করা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সকালে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ওইদিন রাতে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে তুহিনের মোবাইলে আসা কয়েকটি ফোনকলের সূত্র ধরে আরও দুই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

৫ হাজার টাকা নিয়ে কী ঘটেছিল?

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেফতার হওয়া কিশোরদের একজন অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সম্প্রতি অপ্রতিম টাকা ফেরত চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ থেকে ওই কিশোরের মধ্যে অপ্রতিমের প্রতি বিরক্তি তৈরি হয়েছিল। এমনকি অপ্রতিম না থাকলে টাকা ফেরত দিতে হবে না, এমন চিন্তাও তার মধ্যে তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি যে এই আর্থিক বিরোধই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

নির্জন এলাকায় হামলার অভিযোগ

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান (১৬) তাকে আঘাত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার আইফোন নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে পুলিশের দাবি।

পরিবারের বক্তব্যেও উঠে এসেছে নতুন প্রশ্ন

অপ্রতিম শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তার খোঁজ শুরু হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা এক যুবককে শনাক্ত করা হয়।

অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. কামরুন নাহাত শীলা।

নাহিদা বেগমের পক্ষ থেকে আগের কোনো ঘটনার প্রতিশোধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

তিনটি সম্ভাব্য বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বর্তমানে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা, ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধ এবং আগের কোনো ঘটনার জেরে প্রতিশোধ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

Social Icons