GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ডাক্তার আছেন / জ্বর ঠোসা থেকে চোখ ও শিশুদের কীভাবে রক্ষা করবেন

জ্বর ঠোসা থেকে চোখ ও শিশুদের কীভাবে রক্ষা করবেন

জ্বর ঠোসা থেকে চোখ ও শিশুদের কীভাবে রক্ষা করবেন

বারবার জ্বর ঠোসায় ভুগছেন? এর পেছনে থাকতে পারে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস টাইপ-১ (HSV-1)। একবার এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে সাধারণত সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়। পরে জ্বর, অসুস্থতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মানসিক চাপ, রোদে থাকা বা হরমোনের পরিবর্তনের মতো কারণে এটি সক্রিয় হয়ে জ্বর ঠোসা তৈরি করতে পারে।

জ্বর ঠোসা কেন হয়?

জ্বর ঠোসা একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বা লালার সংস্পর্শ, ঠোসায় হাত দিয়ে সেই হাত অন্যের মুখে লাগানো কিংবা আক্রান্ত ঠোঁটের সংস্পর্শে এটি ছড়াতে পারে।

ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে। পরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে বা নির্দিষ্ট কিছু ট্রিগারের কারণে আবার সক্রিয় হয়ে জ্বর ঠোসা দেখা দিতে পারে।

অসুস্থতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মানসিক চাপ, রোদে থাকা এবং মাসিকের সময় কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন জ্বর ঠোসা হয়েছে?

সাধারণত আক্রান্ত স্থানে ফোস্কা ওঠার আগে জ্বালাপোড়া, ঝিমঝিম বা চুলকানি শুরু হয়। এরপর ৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছোট ছোট পানিভর্তি ফোস্কা দেখা দিতে পারে।

পরবর্তীতে ফোস্কা ফেটে গিয়ে ক্ষতস্থানে চলটা পড়তে পারে। সাধারণত প্রায় ১০ দিনের মধ্যে এটি সেরে উঠতে শুরু করে। সম্পূর্ণ সেরে ওঠার আগ পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

জ্বর ঠোসা হলে যেসব সতর্কতা জরুরি

চোখের সুরক্ষা:
জ্বর ঠোসায় হাত দেওয়ার পর চোখে হাত দিলে হারপিস ভাইরাস চোখে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই ঠোসায় হাত না দেওয়াই ভালো। স্পর্শ করলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে এবং চোখে হাত দেওয়ার আগে হাত পরিষ্কার রাখতে হবে।

শিশু ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে সতর্কতা:
জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় নবজাতককে চুমু দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে।

যৌনাঙ্গে সংক্রমণ প্রতিরোধ:
জ্বর ঠোসা সম্পূর্ণ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত ওরাল সেক্স এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ আক্রান্ত মুখের সংস্পর্শে যৌনাঙ্গে হার্পিস সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

জ্বর ঠোসা হলে কী করবেন?

সাধারণত জ্বর ঠোসা নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে উপসর্গ কমাতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

  • শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিভাইরাল ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • ব্যথা ও জ্বালাপোড়া কমাতে বরফ বা ঠাণ্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যথা ও জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করে পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া ঠেকাতে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • বাইরে গেলে ঠোঁটকে অতিরিক্ত রোদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এসপিএফযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • যেসব কারণে আপনার বারবার জ্বর ঠোসা হয়, যেমন অতিরিক্ত রোদ, মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত ক্লান্তি, সেগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।

যা করবেন না

জ্বর ঠোসা থাকা অবস্থায় চুমু দেওয়া, খাবার-পানি ভাগাভাগি করা এবং আক্রান্ত স্থানে অপ্রয়োজনে হাত দেওয়া এড়িয়ে চলুন। চামচ, গ্লাস, তোয়ালে, রেজার, লিপজেল বা লিপস্টিকের মতো ব্যক্তিগত জিনিস অন্যের সঙ্গে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

এ ছাড়া ঠোসায় হাত লাগার পর চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

জ্বর ঠোসা সাধারণত গুরুতর সমস্যা ছাড়াই সেরে যায়। তবে চোখের আশপাশে সংক্রমণ, খুব ঘন ঘন জ্বর ঠোসা হওয়া, দীর্ঘদিনেও না সারা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Social Icons