মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যায় চারটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড ও মৃত্যুর ঘটনা। কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় হত্যা, খুলনায় শিক্ষার্থী আজমুলকে মারধরে মৃত্যু, সুনামগঞ্জে বাবার সঙ্গে বিষপানে তিন শিশুর মৃত্যু এবং মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আইফোন ছিনিয়ে নিতে হত্যা অপ্রতিমকে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) শুক্রবার দুপুরে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়। এরপর তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তে পরে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরের ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও উঠে আসে। তবে এই বিরোধ হত্যাকাণ্ডের কারণ ছিল কিনা, তা তদন্তাধীন।
খুলনায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
একই রাতে খুলনা নগরীর একটি ছাত্রাবাসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন আযমকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ‘ভাত চুরি করে খাওয়া’সহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোডসংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধর করা হয়।
পরিবারের দাবি, পরে আজমুলের বাবার কাছে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে।
সুনামগঞ্জে বাবার সঙ্গে বিষপানে তিন শিশুর মৃত্যু
শুক্রবার রাত প্রায় ১টার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার রজনীলাইন গ্রামে তিন সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করেন সরফত আলী।
নিহত শিশুরা হলো মাওয়া আক্তার (১০), শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, সরফত আলীর স্ত্রী তিন দিন আগে সৌদি আরবে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। রাতে সন্তানদের নিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার পর সরফত আলী তাদের সঙ্গে কীটনাশক পান করেন।
পরে তিনি এক আত্মীয়কে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থায় সরফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের লাশ
পরদিন শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে একটি ঘর থেকে সৌদি প্রবাসী ইকরাম, তার স্ত্রী সানজিদা এবং দেড় বছরের সন্তান আলেজার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইকরাম কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন। ঘরের ভেতর স্ত্রী ও শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। পাশেই ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তবে কী কারণে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
একদিনে চার ঘটনায় উদ্বেগ
অপ্রতিম হত্যা, খুলনায় শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, সুনামগঞ্জে তিন শিশুর মৃত্যু এবং মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা একটি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটে। এসব ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে।







