GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না: সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ

আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না: সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাফরুল থানায় করা তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুনানিকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে কলিমউল্লাহ বলেন, ‘আমি ভিসি থাকাকালীন সময় জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যা নিয়ে প্রতিবাদ করেছি এবং কথা বলেছি। আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না।’

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলাম। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।

কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানিতে আইনজীবী মহসিন রেজা বলেন, আসামির কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই। তিনি একজন অধ্যাপক। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও আদালতকে জানান আইনজীবী।

অন্যদিকে, গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, আসামি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এই হত্যার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তিনি।

শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন এবং আমার শিক্ষকতার জীবনে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এখনই নেই।’

তিনি আরও বলেন, উপাচার্য থাকাকালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এর কারণে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কলিমউল্লাহকে তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কোটা সংস্কার ও তৎকালীন সরকারের পতনের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল।

আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পর্যায়ের আসামিরা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ওই বছরের ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কাফরুল থানাধীন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলা চালানো হয়।

এ সময় মো. তরিকুল ইসলাম রুবেলসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। রুবেল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের নিকটাত্মীয় আতিউর রহমান কাফরুল থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই দিনই তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

Social Icons