ভারতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফরে যেতে পারেন তিনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে যে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে ঢাকা সন্তুষ্ট নয়। তবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যেতে পারেন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের অষ্টাদশতম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
যে কারণে সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
তিনি জানান, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যেতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়। তবে বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।
ভারত সফর নিয়ে আগে কী বলেছিল সরকার
এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও অনুমান রয়েছে।
তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে যদি কোনো শর্ত যুক্ত করা হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান জল্পনার অবসান হলো।






