হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের মাঝেই জর্ডানের অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও সেনাসদস্য থাকা এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
উৎক্ষিপ্ত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করা হলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এই হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রায় ৮টি এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান এবং একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট (A-10 Thunderbolt) বিমানের ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চলমান এই যুদ্ধে গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আল-আজরাক ঘাঁটিতে ১০ বারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), যার মধ্যে গত জুলাইয়ের এক হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।
রাজধানী আম্মান থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মরুভূমিতে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি জর্ডানের কাছে ‘মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি’ নামে পরিচিত, যা ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঘাঁটিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার মূল কারণ হলো, এটি এফ-৩৫, এফ-১৬, এফ-২২ এর মতো সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান ও চালকবিহীন ড্রোনের অন্যতম প্রধান হ্যাঙ্গার ও সরবরাহকেন্দ্র।
সিরিয়া ও ইরাকে মার্কিন সামরিক নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মূল অপারেশনাল কেন্দ্র হিসেবে আল-আজরাক দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিসিসি (GCC)ভুক্ত দেশগুলোর চেয়ে জর্ডান ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থান করায় মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত সুবিধা পেতে মার্কিন বাহিনী এই ঘাঁটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে; আর সেই কারণেই এটি এখন ইরানের মূল নিশানায় রূপ নিয়েছে।



