সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন অভিযোগ করেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন।
প্রধান বিচারপতির এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলা হলে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের স্বার্থের কথা বলাই তার দায়িত্ব। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো ভূমিকা আছে কি না।
খোকন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য ‘অনভিপ্রেত’। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বারের সভাপতি হিসেবে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে তাদের বিষয়গুলো তুলে ধরার দায়িত্ব তার রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম! উনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন না? উনি কে? উনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন? আই অ্যাম সারপ্রাইজড, শকড অ্যান্ড সারপ্রাইজড!’
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর ব্যারিস্টার খোকন, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক সাংবাদিকদের সামনে নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন।
ব্যারিস্টার খোকনের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য একটি মামলার কার্যক্রম শেষে তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর ৫ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন। তার দাবি, একজন জুনিয়র আইনজীবীর জন্য এত বড় অঙ্কের জরিমানা অনেক বেশি।
খোকন বলেন, তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থেই বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে তুলে ধরেছিলেন।
এরপর তিনি আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর কারণে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার দাবি, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ও তিনটি বেঞ্চ ছিল। বর্তমানে একটি বেঞ্চে মামলা শুনানি হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মামলা পড়ে আছে।
তিনি বলেন, একটি মামলায় সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে, কিন্তু সেটি প্রায় এক বছর ধরে আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে। চারবার চেম্বার জজের কাছে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেও মামলাটি শুনানি করানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
খোকনের দাবি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কোনো তর্ক হয়নি। আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের স্বার্থের কথা বলা তার দায়িত্ব। প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে কেন এতটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, জরিমানা মওকুফের অনুরোধের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আদালতের সঙ্গে ‘প্রতারণা এবং গুরুতর জালিয়াতির’ বিষয়টি বিবেচনা করেই ওই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আদালত তা পরিবর্তন করবে না।
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, এরপর আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি কি বোঝাতে চাইছেন যে প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পরই আইনজীবীদের আয় কমে গেছে।
কাজল বলেন, খোকন একই বক্তব্য আবার বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যকে আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেন। এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি আর সেদিনের আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না এবং এজলাস ছেড়ে যান।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্য হতে পারে, তবে তা সাধারণত আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
তিনি বলেন, ব্যারিস্টার খোকন একজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল।






