নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পাশাপাশি পেনশনেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের জন্য বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, নিট পেনশন, আনুতোষিক, পারিবারিক পেনশন ও ছুটি নগদায়নের নতুন নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বিধান ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
চাকরিকালের ভিত্তিতে পেনশনের হার
নতুন ব্যবস্থায় পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ বছর থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি পর্যন্ত ধরা হয়েছে। সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে পেনশনের হার নির্ধারণ করা হবে।
- ৫ বছর চাকরি: মূল বেতনের ২১ শতাংশ
- ১০ বছর: ৩৬ শতাংশ
- ১৫ বছর: ৫৪ শতাংশ
- ২০ বছর: ৭২ শতাংশ
- ২১ বছর: ৭৫ শতাংশ
- ২২ বছর: ৭৯ শতাংশ
- ২৩ বছর: ৮৩ শতাংশ
- ২৪ বছর: ৮৭ শতাংশ
- ২৫ বছর বা তার বেশি: ৯০ শতাংশ
নিট পেনশনে বৃদ্ধির নতুন হার
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পাওয়া নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে নতুন কাঠামোয় বৃদ্ধির হিসাব করা হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী—
| বর্তমান নিট পেনশন | বৃদ্ধির হার |
|---|---|
| ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত | ১০০% |
| ৯,০০১–২০,০০০ টাকা | ৭৫% |
| ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা | ৬৫% |
| ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা | ৬০% |
| ৪০,০০১ টাকা বা তার বেশি | ৫৫% |
সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা
নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে ৯ হাজার টাকা নিট পেনশন পাওয়া কেউ নতুন হিসাবে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
অন্যদিকে ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের জন্য সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ২০০ টাকা।
তবে বর্তমানে কোনো অবসরভোগী এই সীমার বেশি নিট পেনশন পেয়ে থাকলে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত তার বিদ্যমান নিট পেনশন বহাল থাকবে।
নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা
অর্থ বিভাগের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এ অবসরভোগীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার এসব বিধান রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, নিট পেনশন, আনুতোষিক, পারিবারিক পেনশন ও ছুটি নগদায়নের হিসাবও নির্ধারণ করা হয়েছে।







