GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ফাস্টফুড ও কায়িক পরিশ্রমের অভাবে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

ফাস্টফুড ও কায়িক পরিশ্রমের অভাবে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

সন্ধ্যারাতেই আলো-আঁধারির নান্দনিক সাজে সেজে ওঠে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী শহর। পদ্মাপাড়ের স্নিগ্ধ বাতাসে ফুটপাতে জমজমাট আড্ডার সাথে ফুচকা, বার্গার কিংবা নানাবিধ ফাস্টফুড যেন তরুণদের নিত্যদিনের অনুষঙ্গ। কিন্তু এই জনপ্রিয় মুখরোচক খাবারগুলো তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ।

আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণা সতর্ক করে জানিয়েছে, নিয়মিত আল্ট্রা প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ ১০ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর হৃদরোগ ওয়ার্ডে গেলে। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেড না পেয়ে অনেক রোগীকেই জায়গা নিতে হয়েছে মেঝের বারান্দায়। এদের একটি বড় অংশই কিশোর ও তরুণ।

পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা ১৭ বছরের স্কুলছাত্র মেহেদী হাসান ফাহিম সেখানে চিকিৎসাধীন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তাঁর হৃদরোগ ধরা পড়েছে। ফাহিম জানায়, “চিকেন বার্গার, ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া খাবার বেশি খেতাম। ইনজেকশনের কোর্স শেষ হলে ডাক্তাররা এনজিওগ্রাম করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলেছেন।”

একই চিত্র দেখা গেছে রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনেও। নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে আসা কলেজছাত্রী রণিমা বুকে তীব্র চাপ ও মাথা ঘোরার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনিও হৃদরোগে আক্রান্ত।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন’-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১ কোটি ৩ লাখের বেশি মানুষ হৃদরোগে ভুগছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় ২৯.১ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম কায়িক পরিশ্রম করেন, যা দ্রুত হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

রাজশাহীর বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. রকিবুল হাসান রাসেদ বলেন, “খাবারের গুণাগুণ যাচাই না করে অতিরিক্ত প্রসেসড ফুড খাওয়া এবং নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম না করার কারণেই তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে হৃদরোগ বাড়ছে।”

অপর বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. রইছ উদ্দিন জানান, “রোগ হওয়ার আগেই প্রিকশন বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সচেতনতা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সহজেই এড়িয়ে চলা সম্ভব।”

চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন—ক্যালেন্ডারের পাতা দেখে নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে হার্টকে সচল রাখা জরুরি। মনে রাখতে হবে—‘ডোন্ট মিস অ্যা বিট’, কারণ প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন।

Social Icons