GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্ত্রীর আত্মহত্যা

স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্ত্রীর আত্মহত্যা

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বার্ধক্যজনিত কারণে স্বামীর মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রেললাইনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্ত্রী আত্মহনন করেছেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে এই বয়স্ক দম্পতির মরদেহ স্বজনরা উদ্ধার করে পারিবারিক শ্মশানে একইসঙ্গে পাশাপাশি চিতায় দাহ করেন।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে।

মারা যাওয়া দম্পতি হলেন মালিগাঁও গ্রামের স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তাঁর স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ (৭৫)। তাঁদের পরিবারে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। নিত্য বালাও স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত মন্দিরের পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।

স্বামীর শোক সইতে না পেরে মর্মান্তিক পরিণতি

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মণ। স্বামী হারানোর পর সারারাত তাঁর মরদেহের পাশেই বসে কাঁদছিলেন স্ত্রী নিত্য বালা। মঙ্গলবার ভোরে তিনি পরিবারের অগোচরে বাড়ি থেকে একা বের হয়ে যান। দীর্ঘ সময় তাঁকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে সকালে কিসমত রেললাইনের পাশে নিত্য বালার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের মতে, স্বামীর প্রয়াণের তীব্র শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি ভোরে রেললাইনে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে স্বজনরা রেললাইন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পাশাপাশি চিতায় দাহ

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পরিবারের নিজস্ব ফসলি জমির পাশে তৈরি শ্মশানে হরেন্দ্রনাথ বর্মণ ও নিত্য বালা বর্মণের মরদেহ পাশাপাশি চিতায় তুলে সৎকার করা হয়। এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ জানান, “বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং সোমবার রাতে মারা যান। মা বাবাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। সারারাত বাবার মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিলেন। ভোরে বাইরে বের হওয়ার পর আর তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রেললাইনের পাশ থেকে মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং দুইজনের দাহ একসাথেই সম্পন্ন করা হয়েছে।”

প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, “ছোটবেলা থেকেই দেখেছি কাকি কাকাকে খুব ভালোবাসতেন। কাকার মৃত্যুর পর কাকির এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় পরিবার ও গ্রামের কেউই মানসিকভাবে সামলে উঠতে পারছেন না।”

পুলিশের বক্তব্য

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর স্বজনরা নিজ উদ্যোগে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে সৎকার সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি পুলিশ পরে জানতে পেরেছে। তবে যেহেতু রেললাইনে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তাই রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Social Icons