ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সৎ, প্রতিবেশীসুলভ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক চায় বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভারতে আশ্রয় নিয়ে শেখ হাসিনাকে সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের আপত্তি রয়েছে।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ কারও সঙ্গে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ চায় না। দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে যে ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক থাকা উচিত, বাংলাদেশ সেই সম্পর্কই চায়।
হাসিনাকে নিয়ে ঢাকার আপত্তি
সোমবার ভোলায় চার দিনের সফরের শেষ দিনে ঢাকায় ফেরার পথে ভোলা সার্কিট হাউজে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন স্পিকার। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। তবে ভারতও যে এখন পর্যন্ত সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে মূলত কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে।
তার ভাষ্য, পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ চায় না বাংলাদেশ
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানান স্পিকার।
তবে বাংলাদেশ এমন সম্পর্ক চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে সার্বভৌমত্ব ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে।
ব্রিকস নিয়েও স্পিকারের বক্তব্য
ব্রিকসে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্পিকার। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই ব্রিকসে যোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তেমন কোনো উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার আহ্বান
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনে দেশের বিভিন্ন স্তরে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, পরিস্থিতির উন্নতি হতে সময় লাগবে। সাত মাস এ কাজের জন্য খুবই অল্প সময় হলেও সরকার সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে জানিয়ে স্পিকার বলেন, কীভাবে সংস্কার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো দলগুলোর মধ্যে পুরোপুরি ঐকমত্য হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি ও বিরোধী দলগুলো দ্রুত সমঝোতায় আসবে।
বিরোধী দলের প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন। বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরতে হবে।
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়া থাকলে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ক্ষমতার জন্য কেউ যদি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব জনগণের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন স্পিকার।
৭০ কিলোমিটার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
এদিকে ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের উভয় পাশে ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সোমবার সকালে ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের ডাওরিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনার আওতায় এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে।






