নারীদের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পেছনে একটাই খাবার দায়ী—এমন নয়। তবে কিছু দৈনন্দিন পছন্দ নিয়মিত বেশি হয়ে গেলে পিসিওস, থাইরয়েডসহ বিপাকীয় সমস্যাকে আরও জোরালো করতে পারে।
বেশি ব্যবহার হয় এমন বীজের তেল

সয়াবিন, সূর্যমুখী বা ক্যানোলার মতো পরিশোধিত বীজের তেল শুধু রান্নাতেই নয়, অনেক প্যাকেটজাত খাবারেও থাকে। ফলে নিজের অজান্তেই এগুলোর ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে। আবার খাবারে ওমেগা-৬ বেশি হলেও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার কম হলে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিনি—মিষ্টি ছাড়াও কেচাপ, দই, গ্র্যানোলায়
শুধু চকলেট বা মিষ্টি নয়; কেচাপ, ফ্লেভারযুক্ত দই, গ্র্যানোলা বা বিভিন্ন ‘হেলদি’ বলে চালানো প্যাকেটজাত খাবারেও বাড়তি চিনি থাকতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ইনসুলিন প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা থাকলে এই দিকটি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
চিনির পরিমাণ না দেখে কেনা বড় ভুল
ক্যালোরি দেখাই যথেষ্ট নয়। খাবার কেনার আগে লেবেলে যোগ করা চিনির পরিমাণ দেখে নেওয়াই বেশি কাজে দেয়। এতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চিনি গলে যাওয়ার পথ কমে।
কৃত্রিম মিষ্টিকারকেও হতে পারে হজমের অস্বস্তি
চিনি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে অনেকেই কৃত্রিম মিষ্টিকারক ব্যবহার করেন। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কৃত্রিম মিষ্টিকারক হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মিষ্টি স্বাদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং প্রয়োজন হলে পরিমিত ব্যবহারই ভালো।
দুগ্ধ আর সয়া—সবাই একভাবে প্রভাবিত হয় না
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারকে সরাসরি ‘সব ক্ষেত্রে ক্ষতিকর’ বলা ঠিক নয়। কিছু গবেষণায় ফ্যাটহীন দুধ ও আইজিএফ-১-এর মাত্রার মধ্যে সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। আবার কিছু মানুষের ব্রণ বাড়তে পারে। তবে সবার শরীরে প্রভাব এক নয়। সমস্যা না থাকলে হঠাৎ করে সব দুগ্ধজাত বাদ দেওয়ার দরকার নেই।
সাথে, টোফু, টেম্পে বা এডামামের মতো গোটা সয়া খাবার সাধারণত পুষ্টিকর এবং অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ। কিন্তু প্রোটিন আইসোলেটের মতো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত সয়া উপাদান অনেক প্রোটিন বার ও শেকে থাকে। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে সয়া-জাতীয় সাপ্লিমেন্ট বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
শুধু খাবার বদলালেই হবে?
হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে কোনো একটি খাবার বাদ দিলেই সমাধান হয় না। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ—এই সমন্বয়ই মূল।
প্রবাসী নারীদের জন্য সহজ চেকলিস্ট
- রান্নায় তেলের ধরন ও পরিমাণের দিকে নজর দিন।
- প্যাকেটজাত খাবারে যোগ করা চিনি আছে কি না দেখুন।
- কৃত্রিম মিষ্টিকারক বেশি হলে অস্বস্তি হচ্ছে কি না খেয়াল করুন।
- থাইরয়েড বা পিসিওস থাকলে প্রক্রিয়াজাত সয়া ও সাপ্লিমেন্ট নিয়ে আগে পরামর্শ নিন।
প্রশ্ন: আমার পিসিওস থাকলে কি সব ধরনের সয়া বাদ দিতে হবে?
উত্তর: টোফু, টেম্পে বা এডামামের মতো গোটা সয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে প্রক্রিয়াজাত সয়া উপাদান বা সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রশ্ন: মিষ্টি না খেলে কি চিনির ঝুঁকি থাকে না?
উত্তর: থাকতে পারে। কেচাপ, ফ্লেভারযুক্ত দই, গ্র্যানোলা বা ‘হেলদি’ প্যাকেটজাত খাবারেও বাড়তি চিনি থাকতে পারে। লেবেল দেখে নিন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









