GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / পলাতক নানকের কাছে প্রতি মাসে কোটি টাকা! ঢাকা-বরিশাল থেকে যাচ্ছে যেভাবে

পলাতক নানকের কাছে প্রতি মাসে কোটি টাকা! ঢাকা-বরিশাল থেকে যাচ্ছে যেভাবে

পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত হুন্ডির মাধ্যমে টাকা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বাড়ি ও সম্পত্তি থেকে আসা আয়ের একটি অংশ দুই হুন্ডি ব্যবসায়ী এবং বেনাপোলের একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানো হচ্ছে। এই অর্থ পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে নানকের তিন ঘনিষ্ঠজন জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর নানক প্রথমে শিলং এবং পরে কলকাতায় যান। কলকাতার তপসিয়া এলাকায় আগে থেকেই ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাটে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে অর্থ যাওয়ার অভিযোগ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এর একটি অংশ বরিশাল থেকে এবং আরেকটি অংশ ঢাকা থেকে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বরিশাল নগরীর সদর রোড ও কাঠপট্টি এলাকার দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অর্থ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাদের একজন হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং অন্যজন স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বরিশালের সম্পত্তি থেকে আয়ের অভিযোগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশালের বিভিন্ন বাড়ি ও ভবন থেকে পাওয়া ভাড়ার অর্থ ওই হুন্ডি ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে তারা পশ্চিমবঙ্গে রুপি হিসেবে সেই অর্থ নানকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরিশালে নানকের বিভিন্ন সম্পত্তি ও ব্যবসা থেকে আসা অর্থও একই প্রক্রিয়ায় ভারতে পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকার অর্থ পাঠানোর আলাদা ব্যবস্থা

ঢাকায় থাকা বাড়ি ও অন্যান্য ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ ভারতে পাঠানোর জন্য বেনাপোল সীমান্তের একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মালিককে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে ওই মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীর যশোরের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো হয়। এরপর পশ্চিমবঙ্গে থাকা তার এজেন্টের মাধ্যমে নানকের কাছে রুপি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ঢাকার অর্থ ভারতে পাঠানোর বিষয়টি নানকের এক ছোট ভাই দেখভাল করেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

নানকের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদনে নানক ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় নানক ও তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় তাদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকা দেখানো হয়। প্রতিবেদনের হিসাবে ১৬ বছরে ঘোষিত সম্পদ প্রায় ৩০ গুণ বেড়েছে।

তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে নানক পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ঘোষিত হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি এবং এর মূল্য শত কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

হলফনামায় কিছু সম্পদের তথ্য নেই বলে দাবি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় নানক দম্পতির মালিকানাধীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর কথা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

এ ছাড়া বরিশালের দোয়ারিকা সেতু এলাকায় থাকা ৮ একর জমি, বিভিন্ন বাড়ি ও সম্পত্তি এবং এসব সম্পত্তি থেকে পাওয়া ভাড়ার অর্থ নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ঢাকার কলাবাগান, উত্তরার ছয়তলা ভবন, মোহাম্মদপুরের আটতলা ভবনসহ কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় নানক পরিবারের আরও সম্পদ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

৫ আগস্টের পরও আয় অব্যাহত থাকার দাবি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও বরিশালে নানকের বিভিন্ন বাড়ি ও সম্পত্তি আগের মতোই রয়েছে এবং সেখান থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় হচ্ছে।

বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় জমির ওপর থাকা ছোট-বড় বাড়ি থেকেও ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও নিয়মিত আয় হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মাসে এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ আয় হচ্ছে এবং সেই অর্থই হুন্ডির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নানকের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

নানকের অবস্থান নিয়ে কী জানা গেল

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশে ফেরা আওয়ামী লীগের এক কর্মী যুগান্তরকে বলেছেন, হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো অর্থ আনতে নানককে বাইরে যেতে হয় না। নির্ধারিত এজেন্টরা কলকাতার তপসিয়ার ফ্ল্যাটে গিয়ে অর্থ পৌঁছে দেন বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার পরিচিত বিভিন্ন ফোন ও মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে কী জানা যাচ্ছে

সব মিলিয়ে প্রতিবেদনে নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। বরিশাল ও ঢাকার সম্পত্তি ও ব্যবসা থেকে আসা অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর একটি কাঠামোর কথাও এতে বলা হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব অর্থপাচার ও সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে নানকের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Social Icons