GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / ফিঙ্গারপ্রিন্ট কপি করে ব্যাংক ও বিকাশের টাকা গায়েব:তারক চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

ফিঙ্গারপ্রিন্ট কপি করে ব্যাংক ও বিকাশের টাকা গায়েব:তারক চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

বায়োমেট্রিক তথ্যের সুসূক্ষ্ম অপব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নকল, সিম রিপ্লেসমেন্ট এবং মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি বিস্তারিত নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত কৌশলে অনলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করত। পরবর্তীতে মোবাইলের স্ক্রিনে প্রদর্শিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের সাহায্যে ধারণ করে তার দৃশ্যমান প্যাটার্ন আলাদা করা হতো। এরপর ডিজিটাল পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে অবিকল নকল আঙুলের ছাপ তৈরি করত তারা। ওই কৃত্রিম ছাপ ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটরদের থেকে সংশ্লিষ্ট নম্বরের সিম রিপ্লেস করে নেওয়া হতো। অবশেষে রিপ্লেস করা সিমের মাধ্যমে গ্রাহকের বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পুরো ব্যালেন্স স্থানান্তর করে হাতিয়ে নিত চক্রটি।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ সুপার জানান, গত ২৭ জুন ভোরে মোংলা এলাকার এক গ্রাহকের ৩টি প্রিপেইড সিমে থাকা মোট ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে নিমিষেই গায়েব করে দেয় ওই চক্র। এ ঘটনায় মোংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে তদন্তের স্বার্থে ডিবি পুলিশ প্রথমে ২ জন এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিক অভিযানে আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১১টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন এবং বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—ইয়াছিন সওদাগর (২১), মো. শামীম শেখ (২৭), রাশেদ মোড়ল (২০), এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), ফেরদাউস (২১), আশরাফুল ইসলাম (২৬), মেহেদী হাসান (২৯), মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং মো. মামুন গাজী (২১)।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে একই প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক পূর্ব মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ৯ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ জনকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৫ জনকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Social Icons