GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিশেষ খবর / বাটার মুনাফা ২৩৮% বেড়েছে

বাটার মুনাফা ২৩৮% বেড়েছে

বাটা বাংলাদেশের জুতা ও রিটেইল কার্যক্রমের প্রতীকী ছবি

প্রবাসী পরিবারের দৈনন্দিন কেনাকাটায় জুতার মতো পণ্যের দাম–উপলব্ধতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের বড় ভোক্তা ব্র্যান্ডগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্যের খবরও টের পাওয়া যায় বাজারের গতিতে। বাটা বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে মুনাফা বাড়িয়ে সেই বার্তাই দিচ্ছে।

এপ্রিল-জুনে রাজস্ব, নিট মুনাফায় লাফ

বাটা বাংলাদেশের জুতা ও রিটেইল কার্যক্রমের প্রতীকী ছবি

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত এপ্রিল থেকে জুন সময়ে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রাজস্ব বেড়েছে ১৯ শতাংশ। একই সময়ে নিট মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—যা ২৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আয়ও ঊর্ধ্বমুখী

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বাটার মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৫৬৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। আর কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে আরও জোরালোভাবে—৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে যা ছিল ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা

ইপিএস বেড়ে শেয়ারহোল্ডারদের হিসাবেও গতি

এই প্রবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে শেয়ারভিত্তিক হিসাবেও। প্রথম ছয় মাসে বাটা বাংলাদেশর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) গত বছরের ১৯.৮৭ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬.৮৭ টাকা হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গাটাও স্পষ্ট হয়—বিশেষ করে যারা লভ্যাংশ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরির সম্ভাবনা দেখেন।

চ্যালেঞ্জের মাঝেও যে কারণে ধারাবাহিক সাফল্য

বাটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, চলমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানির দাম পুনর্বিন্যাস, অর্থনৈতিক শ্লথগতি এবং মৌসুমি বাজারের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে এই মুনাফা অর্জনকে তারা সুপরিকল্পিত কৌশলের সাফল্য হিসেবে দেখছে। পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, গ্রাহকদের কার্যকর অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে ফল এসেছে বলে কোম্পানির ব্যাখ্যা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দুটি ঈদকে ঘিরে কেনাকাটা। প্রথম অর্ধে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সমন্বিত বিপণন প্রচারণা এবং নতুন জুতার কালেকশন বাজারের গতি তৈরি করে। পরে দ্বিতীয় অর্ধে ঈদুল আজহায় লক্ষ্যভিত্তিক বাণিজ্য উদ্যোগ দিয়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

যেসব চাপে ছিল রিটেইল ব্যবসা

তবে সবকিছু সহজ ছিল না। খাদ্য মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে ১০ শতাংশের ওপরে থাকায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং নিত্যপ্রয়োজনের বাইরে পণ্যে ব্যয়ের সক্ষমতা চাপে ছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনায় রিটেইল খাতের দৈনিক ব্যবসায়িক সময় কমে যায়। ফলে বিক্রয়ের সুযোগও সীমিত হয়েছে।

চ্যালেঞ্জিং সময়ে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ব্র্যান্ডটির প্রতি আস্থা ও সমর্থন অব্যাহত রাখায় গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাটা বাংলাদেশ। আগামী দিনগুলোতেও উদ্ভাবন, পরিচালন দক্ষতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসায়িক কৌশল বাস্তবায়ন চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রবাসীরা সাধারণত পরিবারকে ঈদসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন জুতা–চশমা–বস্ত্রের মতো দৈনন্দিন কেনাকাটায় সহায়তা করেন। বড় ব্র্যান্ডের রাজস্ব ও মুনাফা বাড়ার মানে সাধারণত বাজারে পণ্য সরবরাহ, বিপণন কার্যক্রম ও চাকরির পরিবেশ—এসব দিকেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়।

কয়েকটি প্রশ্ন

বাটা বাংলাদেশ এপ্রিল-জুনে কত রাজস্ব পেয়েছে?
এ সময় রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

নিট মুনাফা কত বেড়েছে?
নিট মুনাফা বেড়েছে ২৩৮ শতাংশ।

প্রথম ছয় মাসে ইপিএস কত হয়েছে?
ইপিএস হয়েছে ৩৬.৮৭ টাকা।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons