GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / আদমজী ইপিজেড থেকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

আদমজী ইপিজেড থেকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

আদমজী ইপিজেডের কারখানায় শ্রমিকদের ব্যস্ততা

আদমজী ইপিজেডে সকাল থেকেই ব্যস্ততা—টিফিন হাতে শ্রমিক, আর ভেতরে বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন ধারা। এই শিল্পাঞ্চল থেকেই রপ্তানি হচ্ছে বহুমুখী পণ্য; যেখানে কাজের সুযোগ আর রপ্তানি আয়—দুটোই একসঙ্গে টানছে দেশের অর্থনীতির চাকা।

রপ্তানির টানে কারখানার নিত্যদিনের গতি

আদমজী ইপিজেডের কারখানায় শ্রমিকদের ব্যস্ততা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গড়ে ওঠা আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (এইপিজেড) এখন দেশীয় রপ্তানির বড় একটি কেন্দ্র। একসময়ের আদমজী জুট মিলের পরিত্যক্ত ভূমিতেই গড়ে উঠেছে এই ইপিজেড, যেখানে তৈরি হচ্ছে সেফটি জ্যাকেট, ব্লেজার এবং ইউরোপের নবদম্পতিদের জন্য ব্রাইডাল গাউন। পাশাপাশি উৎপাদনে রয়েছে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, সেফটি শু, টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য।

নতুন পণ্য হিসেবে লেজার প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনের অপিসি ড্রাম এবং গাড়ির সিট কভারের মতো কিছু উৎপাদনও চোখে পড়ে। এসবের মাধ্যমেই এখান থেকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি চিত্র তৈরি হচ্ছে।

আদমজী ইপিজেডে কাজ—শ্রমিকের জীবনেও বদল

শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবন বদলাচ্ছে উৎপাদনের এই ধারায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কাজ করতে আসা এক নারী শ্রমিকের বেতন ধাপে ধাপে বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে মাসে ১৯ হাজার টাকা। আগে বেতন ছিল ৮ হাজার ২০০ টাকা। কাজের অভিজ্ঞতা টিকিয়ে রেখে তিনি নিয়মিত মা-বাবার জন্য মাসে চার হাজার টাকা পাঠান। সাত বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করাও তার জীবনে স্থিতি এনে দিয়েছে।

পাশাপাশি একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকেরা আসেন। নারী-পুরুষ মিলিয়ে কর্মী সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে গড়ে উঠেছে—যা ইপিজেডকে কেবল রপ্তানি কেন্দ্র নয়, কর্মসংস্থান কেন্দ্র হিসেবেও শক্ত করে।

নতুন কারখানা, বাড়ছে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা

ইপিজেডের ভেতরে নতুন আরও প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। উৎপাদনে আসতে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সংখ্যা বাড়াবে বলে বেপজার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনের চাকরির বাজারে আদমজী ইপিজেডের ভূমিকা আরও বড় হতে পারে—এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে কারখানার সম্প্রসারণে।

বিনিয়োগ ও রপ্তানি—একই সূত্রে গতি

নদীতীরবর্তী ২৯২ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা আদমজী ইপিজেডে মোট শিল্প প্লটও রয়েছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই ধারায় রপ্তানি হয়েছে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও রপ্তানির পরিমাণ ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

এখানে দেশের একমাত্র ব্রাইডাল পোশাক তৈরির কারখানাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিচিত কিছু ব্র্যান্ডের পোশাকও এই ইপিজেড থেকে তৈরি হয়—যা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।

প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

আদমজী ইপিজেডের এই রপ্তানি ও কর্মসংস্থান প্রভাব প্রবাসী পরিবারের আয়-নির্ভর জীবনেও প্রতিফলিত হয়। দেশে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান থাকলে পরিবারগুলোতে নিয়মিত সাপোর্ট বজায় রাখা সহজ হয়—আর রপ্তানি বাড়লে সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি শক্ত থাকে।

সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর

আদমজী ইপিজেড থেকে কী কী রপ্তানি হয়?
ব্রাইডাল গাউন, সেফটি জ্যাকেট, ব্লেজার, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, সেফটি শুসহ নানা শিল্পপণ্য।

কতজন শ্রমিক এখানে কাজ করেন?
নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়।

রপ্তানি আয় কতটা বড়?
উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী এখান থেকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons