পোশাক খাতে দক্ষ কর্মী তৈরির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিজিএমইএ এবং ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে কর্মশালা ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের প্রদর্শনী হলে ‘বিজিএমইএ-ইবিটি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান’ আয়োজন করা হয়।
দক্ষ জনবল লক্ষ্যেই ইবিটি কর্মসূচি

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের আওতায় বিজিএমইএ পোশাক শিল্পে ‘এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং’—সংক্ষেপে ইবিটি পরিচালনা করছে।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শিল্পের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। কর্মশালায় ইবিটি কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে সনদপ্রাপ্তদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়।
৩ সাইকেলে প্রশিক্ষণার্থী কতজন
বিজিএমইএ-অ্যাসেট যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ইবিটি কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ৩টি সাইকেলে মোট ১৯৩টি ব্যাচের মাধ্যমে ৪,৬৩২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাইকেলের ৯৭টি ব্যাচের ২৩২৮ জনকে অনুষ্ঠানে সনদ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, চতুর্থ সাইকেলের ৯৬টি ব্যাচ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মানবসম্পদই বড় চালিকা শক্তি—সচিবের বক্তব্য
সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই। পোশাক খাতের উৎপাদনশীলতা ও শ্রমশক্তি বাড়াতে বিজিএমইএ এবং অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগ কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর হলেও দক্ষতা উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সরকারের নতুন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশার কথাও উঠে আসে।
তিনি আরও বলেন, শিল্প ও একাডেমিয়ার সম্পর্ক শক্ত করা এবং চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়তে এসব প্রকল্পে বিজিএমইএকে মতামত দিতে হবে। একই সঙ্গে পোশাক খাতকে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কর্মীদের দক্ষতা স্তর ৩ ও ৪-এ উন্নীত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও দক্ষতা
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে টিকতে হলে পোশাক খাতকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করতে হবে। কারখানাভিত্তিক কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে ইবিটি মডেল সফল প্রমাণিত বলেও তিনি জানান।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরি করে পণ্যের মূল্য সংযোজনে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদ শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়—কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের দিকেও জোর দিচ্ছে। নীতি ও সহায়তা পেলে এই কাজ আরও বেগবান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) সামসুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য সংক্ষেপে
পোশাক খাতে দক্ষ কর্মী বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যাচ চলমান রাখা এবং সনদ দেওয়ার এই উদ্যোগটি শ্রমবাজারের সক্ষমতা তৈরির দিকেই এগোচ্ছে। এতে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে প্রশিক্ষণের মিল থাকলে উৎপাদনশীলতাও বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রশ্নোত্তর
ইবিটি কর্মসূচির লক্ষ্য কী?
পোশাক শিল্পের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।
এ পর্যন্ত কত ব্যাচে কতজন প্রশিক্ষণার্থী?
৩টি সাইকেলে মোট ১৯৩টি ব্যাচে ৪,৬৩২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে যুক্ত করা হয়েছে।
চতুর্থ সাইকেল কি শুরু হয়েছে?
হ্যাঁ, ৪র্থ সাইকেলের ৯৬টি ব্যাচ বর্তমানে চলমান।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









