চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিইআইজেডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে সোমবার। বাংলাদেশ ও চীনের জি-টু-জি উদ্যোগের আওতায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে গড়ে উঠছে এই শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র।
সিইআইজেড ভিত্তিপ্রস্তর ঘিরে নানা অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও থাকবেন। রাষ্ট্রীয় ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
এই আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে একটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। একই সঙ্গে সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন, প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
কত জমিতে হবে সিইআইজেড
কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে সিইআইজেড গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত পরিকল্পনায় রপ্তানিমুখী শিল্পের সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামকে আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার নতুন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান এই উদ্যোগকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
বেজার বাস্তবায়নে সহায়ক অবকাঠামো
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সম্প্রতি সিইআইজেডের সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) বাস্তবায়নে এই প্রকল্পের আওতায় জেটি সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, পানি সংরক্ষণাগার এবং গ্যাস সঞ্চালন সুবিধা নির্মাণ হবে।
এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বর্জ্য তরল শোধনাগার (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, সীমানা প্রাচীর ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার অর্থায়ন পরিকল্পনা
অবকাঠামো প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকার বহন করবে এবং ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে। এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার মাধ্যমে এই ঋণ অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের সুবিধা বাড়াতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ—সব মিলিয়ে সিইআইজেডকে বাস্তব পরিকল্পনায় দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দিকেই এই আয়োজনের গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে।
প্রবাসীরা কীভাবে বিষয়টি দেখছেন
প্রবাসী বাংলাভাষীদের জন্যও এই প্রকল্পের বার্তা পরিষ্কার—শিল্প, লজিস্টিকস ও কর্মসংস্থানের সুযোগ যত বাড়বে, ততই দেশের অর্থনৈতিক গতি জোরদার হবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতায় নতুন কর্মপরিবেশ তৈরির সম্ভাবনাও উঠে আসছে।
প্রশ্ন: সিইআইজেড কোথায় গড়ে উঠছে?
উত্তর: কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায়, প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে।
প্রশ্ন: ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে কী কী হবে?
উত্তর: সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
প্রশ্ন: অবকাঠামো প্রকল্পে মোট ব্যয় কত?
উত্তর: প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









