পুরান ঢাকার নারিন্দার এক কোণে হঠাৎ করেই চোখে পড়ে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী—বিনত বিবির মসজিদ। ব্যস্ত নগরজীবনের ভিড় পেরিয়ে যে স্থাপনাটি আজও গম্বুজসহ অক্ষত, সেটিই শহরের পুরোনো সময়কে ধরে রেখেছে।
ঢাকার মসজিদ-শহর পরিচয়ের শিকড়

ঢাকাকে আজ আমরা মসজিদের শহর হিসেবে চিনি। সেই পরিচয়ের সূচনালগ্নের অন্যতম স্মারক হিসেবে ধরা হয় এই মসজিদকে। ইটের গায়ে লেগে আছে বহু শতাব্দীর স্মৃতি—প্রতিটি দেয়াল যেন পুরান ঢাকার হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের গল্প শোনায়।
১৪৫৭ সালের প্রেক্ষাপট ও নির্মাণ উদ্যোগ
ইতিহাস খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ১৪৫৭ খ্রিষ্টাব্দে। স্বাধীন সুলতানি আমলে বাংলার সালতানাত পরিচালনার সময় সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে পুরুষের আধিপত্যের মাঝেও নিজস্ব অর্থ ও উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন মারহামাতের ধর্মপ্রাণ কন্যা মুসাম্মাত বখত বিনত বিবি। তাঁর নামেই কালক্রমে মসজিদটি পরিচিতি পায়।
নারিন্দা-ধোলাইখালের নদীপথ আর বাণিজ্য
নারিন্দা রোড ও পঞ্চবাটি মোড়ের নিকটবর্তী এলাকা একসময় জলপথনির্ভর বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বুড়িগঙ্গার একটি শাখা দিয়ে যাতায়াত করে শীতলক্ষ্যার সঙ্গে যোগাযোগ হতো। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বণিকেরা এ পথে বাণিজ্য করতে আসতেন।
আদি স্থাপত্যের ধরন—গম্বুজ, বুরুজ ও কারুকাজ
মসজিদটির আদি রূপ ছিল বর্গাকার এবং এক গম্বুজবিশিষ্ট। চার কোণে ছিল চারটি ছোট অষ্টকোণাকৃতি বুরুজ বা মিনার। চুন-সুরকি ও পাতলা ইটের গাঁথুনিতে নির্মিত দেয়ালে ছিল পোড়া মাটির ফলক ও জ্যামিতিক কারুকাজ—বাংলার আদি মুসলিম স্থাপত্যের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। যদিও আয়তনে ক্ষুদ্র, তবু ঐতিহাসিক গুরুত্বে এটি বেশ বড়।
পুরোনো ভবন টিকিয়ে রেখে নতুন রূপ
সময়ের সঙ্গে কাঠামো বদলেছে। প্রথম সংস্করণের উল্লেখ পাওয়া যায় ৮৬১ হিজরি ও পরে আরেকটি সংস্করণের উল্লেখ পাওয়া যায় ৮৬৬ হিজরি সময়ে। বর্তমানে পুরোনো অংশ ঠিক রেখে নতুন মসজিদ ভবণ নির্মিত হয়েছে—ফলে ইতিহাসও টিকে আছে, ব্যবহারও নিশ্চিত হয়েছে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্যও এই খবরের মানে আলাদা। দূরে থেকেও নিজের শহর-ভিত্তিক স্মৃতি আর ধর্মীয় ঐতিহ্যের টান টিকে থাকে। কারণ, এ ধরনের স্থাপনাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভেতর দিয়ে ইতিহাসকে সচল রাখে।
প্রশ্নোত্তর
বিনত বিবির মসজিদ কোথায়?
পুরান ঢাকার নারিন্দা এলাকায়, নারিন্দা রোড ও পঞ্চবাটি মোড়ের নিকটবর্তী স্থানে।
মসজিদটি কেন বিখ্যাত?
ছয় শতাব্দীর বেশি সময় ধরে টিকে থাকা ইটের স্থাপত্য এবং আদি মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শনের কারণে।
বর্তমানে কি পুরোনো অংশ আছে?
পুরোনো ভবন ঠিক রেখে নতুন মসজিদ ভবণ গড়ে তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: bondhushava.com









