বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন ছয়টি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি বিক্রি কমেছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে। আগের অর্থবছরের তুলনায় সামগ্রিক চিত্রে নাম দেখা গেলেও পণ্যভেদে পার্থক্য স্পষ্ট—ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল ও কেরোসিনের বিক্রি কমেছে; তবে অকটেন ও জেট এ-১ বিক্রি বেড়েছে।
২০২৫-২৬ এ কমল মোট জ্বালানি বিক্রি

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিসির ছয় অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি করেছিল। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই পরিমাণ নেমে এসেছে ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬১৩ টনে। অর্থাৎ আগের সময়ের তুলনায় কম বিক্রি হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য।
বিক্রিতে যে পণ্যের দিকে গতি কমেছে, সেখানে ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল ও কেরোসিন রয়েছে। অন্যদিকে, অকটেন ও জেট এ-১ বিক্রির প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। ফলে পুরো বাজারে একরকম গতি না থাকলেও কিছু নির্দিষ্ট জ্বালানিতে চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
জ্বালানি বিক্রিতে শীর্ষে পদ্মা অয়েল
প্রতিযোগিতামূলক অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে পদ্মা অয়েল পিএলসি। বিপিসি ও অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বিক্রির মধ্যে পদ্মা অয়েলের ভাগ ৪০ শতাংশের বেশি। বিগত অর্থবছরে পদ্মা অয়েল ২৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৫ টন পণ্য বিক্রি করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এতে প্রায় ৩৯ হাজার টন বেশি জ্বালানি বিক্রি হয়েছে।
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের সবস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে। একই সঙ্গে অপারেশনাল ক্ষতিও তুলনামূলকভাবে কমে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। লোকবল ও নেটওয়ার্কের আকার বড়—এ যুক্তিতে ভবিষ্যতেও আরও ভালো করার সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ডিজেলে এগিয়ে মেঘনা, যমুনায় বাড়তি বিক্রি
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিসির মোট চিত্রে ডিজেল বিক্রি কমলেও, কিছু প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে যমুনা অয়েলের ডিজেল বিক্রি বেড়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটি ১৩ হাজার ২০২ টন বেশি ডিজেল বিক্রি করেছে।
ডিজেল বিক্রিতে শীর্ষে রয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম। প্রতিষ্ঠানটি সদ্য বিগত অর্থবছরে ১৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৬ টন ডিজেল বিক্রি করেছে। অর্থাৎ ডিজেলের বাজারে অবস্থান শক্ত রেখেছে মেঘনা।
সামগ্রিকভাবে সময়ের ওঠানামা
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসির মোট জ্বালানি বিক্রি হয়েছিল ৬৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২০ টন। এরপর ২০২৪-২৫ এ তা বেড়ে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টনে পৌঁছালেও ২০২৫-২৬ এ আবার কমে ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬১৩ টনে নেমে আসে। বিপিসির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রির বছর ছিল ২০২২-২৩—সেবার মোট বিক্রি হয় ৭৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫ টন জ্বালানি। সেখানেও পণ্য বিক্রিতে শীর্ষে ছিল পদ্মা অয়েল।
এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছয় অঙ্গ প্রতিষ্ঠান—পদ্মা অয়েল পিএলসি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল কোম্পানি, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি, এলপিজিএল এবং ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স—মোট ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬১৩ টন জ্বালানি বিক্রি করেছে। পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ডিজেল। একই সঙ্গে অকটেন ও জেট এ-ওয়ান বিক্রিতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দেখা গেছে।
প্রবাসীদের জন্য সহজ ব্যাখ্যা
প্রবাসীদের দৈনন্দিন খরচে সরাসরি প্রভাব না থাকলেও জ্বালানি বিক্রির ওঠানামা পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক গতি-চাহিদার ইঙ্গিত দেয়। যেখানে কিছু পণ্যে চাহিদা কমছে, সেখানে আবার কিছু পণ্যে বিক্রি বাড়ছে—ফলে বাজারের গঠন বদলাচ্ছে।
ডিজেল বিক্রিতে কে এগিয়ে?
ডিজেল বিক্রিতে শীর্ষে রয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম।
পদ্মা অয়েল কতটা বিক্রি করেছে?
বিগত অর্থবছরে পদ্মা অয়েল ২৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৫ টন পণ্য বিক্রি করেছে।
কোন জ্বালানিতে বিক্রি বেড়েছে?
অকটেন ও জেট এ-১ বিক্রি বেড়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









