GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিশেষ খবর / প্রবাসীদের কষ্ট নিয়ে আসিফ আকবরের বক্তব্য

প্রবাসীদের কষ্ট নিয়ে আসিফ আকবরের বক্তব্য

প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে প্রতীকী চিত্র

প্রবাসে গিয়ে বাস্তব আনন্দ থেমে যায়—এমন কথাই স্পষ্ট করে তুলে ধরলেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। তাঁর পর্যবেক্ষণে প্রবাসজীবনের কষ্টটা শুধু কাজের চাপ নয়; পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, ঝুঁকি ও স্বস্তির সীমাবদ্ধতাও জড়িয়ে আছে।

দেশের বাইরে আনন্দ কমে কেন

প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে প্রতীকী চিত্র

রোববার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসিফ আকবর বলেন, দেশের বাইরে থাকলে মানুষের জীবনে প্রকৃত আনন্দ থাকে না। তিনি জানান, গান গাওয়ার সুবাদে বহু দেশ ঘুরেছেন। সেই অভিজ্ঞতায় তিনি প্রবাসীদের জীবনযাত্রা নিবিড়ভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাসে গিয়ে মানুষ অনেক সময় বাধ্য হয়েই নিজের জীবনে আনন্দ খুঁজে নেয়। মন থাকে দেশে, আর শরীর খাটে বিদেশে—এই বাস্তবতাই প্রবাসজীবনের ভারী অনুভূতি তৈরি করে।

স্বস্তি থাকলেও জীবন অনেকটাই যান্ত্রিক

পশ্চিমা দেশসহ উন্নত জায়গাগুলোর প্রবাসীদের জীবন নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন আসিফ। তিনি বলেন, এসব দেশে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে থাকা সম্ভব।

তবে একই সঙ্গে তাঁর ভাষায়, ব্যস্ত জীবনযাত্রা আর গতিময়তার কারণে জীবন অনেকটাই যান্ত্রিক হয়ে যায়। বিনোদনের সুযোগ ও সামর্থ্য থাকলেও মানসিক টানটা অন্য জায়গায়ই থাকে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

দূরপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকা—ঝুঁকিও বাস্তব

মালদ্বীপ, মালয়েশিয়াসহ দূরপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী থাকার কথাও উল্লেখ করেন আসিফ। আফ্রিকায়ও প্রবাসীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান তিনি।

কিন্তু এসব অঞ্চলে থাকা প্রবাসীদের নানা ঝুঁকির কথাও সামনে আনেন। তাঁর মতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরির সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা বড় সংকট। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে অনেক প্রবাসীকে সাগর, জঙ্গল ও পাহাড়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ পেরোতে হচ্ছে—এটাই কষ্টকে আরও তীব্র করে।

মানবপাচার ও আইনি জটিলতার ভয়

মানব পাচারের ভয়াবহতাও তাঁর স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে। জিম্মি করে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধে মানবপাচারকারীরা জড়িত—এ কথাও তিনি বলেন। ফলে জেল, পুলিশ ও মামলার মতো পরিস্থিতি অনেক প্রবাসীর জীবনে নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা জানান।

দুর্ঘটনায় নিহত কিংবা অসহায়-দরিদ্র প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও নানা জটিলতা আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এসব পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের বিনোদন বা স্বস্তির সুযোগ খুবই কমে যায়।

কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান

আসিফ আকবর বলেন, ভাগ্যবিড়ম্বিত প্রবাসীদের জীবনমানের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, নিশ্চিত করতে হবে—দেশে এসেও যেন তারা স্বস্তি পায়।

প্রবাসীদের অর্থনীতিতে অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড সোজা রেখেছে। তাই প্রবাসীদের কল্যাণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অবস্থাপন্ন প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করে দূতাবাসগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসের স্থানীয় রাজনীতি যেন তাদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। প্রবাসীদের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব দেন।

প্রবাসী পাঠকের জন্য কী বার্তা

প্রবাসে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই বক্তব্যের মূল বার্তা সহজ—কষ্ট স্বাভাবিক নয়। ঝুঁকি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ—সব দিকেই ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে জিম্মি, মানবপাচার কিংবা দুর্ঘটনার পর আইনি ও আর্থিক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা দরকার বলে মনে করিয়ে দেন তিনি।


প্রশ্ন: আসিফ আকবর প্রবাসজীবনকে কীভাবে দেখেছেন?

উত্তর: তাঁর পর্যবেক্ষণে দেশের বাইরে আনন্দ কমে যায়, মন থাকে দেশে, শরীর খাটে বিদেশে—এটাই মূল বাস্তবতা।

প্রশ্ন: পশ্চিমা দেশ নিয়ে তাঁর বক্তব্য কী?

উত্তর: সামাজিক নিরাপত্তা থাকলেও জীবন অনেকটাই যান্ত্রিক ও গতিময় বলে তিনি জানান।

প্রশ্ন: মানবপাচার প্রসঙ্গে তিনি কী বলেছেন?

উত্তর: জিম্মি করে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধে মানবপাচারকারীদের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons