প্রবাসীসহ সব ব্যবসা-নির্ভর মানুষের জন্য বড় বার্তা হলো—২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি আগের সংলাপে ওঠা বেশির ভাগ সমস্যা সমাধানের অগ্রগতিও এসেছে আলোচনায়।
বিডার বৈঠকে উদ্যোক্তাদের রপ্তানি লক্ষ্য

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে বৈঠক হয়। সেখানে উদ্যোক্তারা সরকারের নানা অর্থনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। এই লক্ষ্য বাস্তব হলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন বাড়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমস্যা বোঝে সরকার, অনুধাবন করে ব্যবসায়ীরাও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। তিনি জানান, সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এসময় তিনি এপ্রিলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তখন ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, অনেকগুলোই এরই মধ্যে সমাধান হয়েছে। তবে আজকের বৈঠকেও নতুন কিছু সমস্যা উঠে এসেছে, সেগুলোর সমাধানেও সরকার কাজ করবে।
আগের ২৮ সমস্যায় অগ্রগতি
বৈঠকে জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু লক্ষ্য নয়—বাস্তব বাধাগুলো ধাপে ধাপে কমানোর চেষ্টাও চলমান।
আরও সংলাপ, সময়সীমা ও আশাবাদ
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবে সরকার। এ ধরনের সংলাপ নিয়মিত চলতে থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসীদের জন্য এর মানে কী?
রপ্তানি আয় বাড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দেশি উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে গতি আসতে পারে। এতে কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা এবং প্রবাসী পরিবারের আয়ের নিরাপত্তা—সব দিকেই ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।
দ্রুত প্রশ্ন-উত্তর
রূপরেখা কাদের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়?
বিডার বৈঠকে ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে রূপরেখাটি তুলে ধরেন।
লক্ষ্য কত সালের মধ্যে?
২০৩০ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার কথা বলা হয়।
পরবর্তী বৈঠক কবে হতে পারে?
দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









