খাদ্যের দাম বাড়ার চাপ শুধু বাজারে থাকছে না—সেটা সবচেয়ে বেশি টানছে নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবন। গবেষণা সংস্থা সিপিডির বক্তব্য অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সঞ্চয়ের মতো মৌলিক খরচেও।
গত চার বছর ধরে উদ্বেগ বাড়ছে

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘বাংলাদেশের খাদ্যমূল্য শৃঙ্খল: বাজার, মুনাফার হার (লাভের মার্জিন) এবং মধ্যস্বত্বভোগী’ শীর্ষক সংলাপে সিপিডি জানায়, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে আছে। বিশেষ করে গত চার বছর ধরে এটা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ে না। নিম্নআয়ের মানুষের ব্যয়ের বড় অংশই খাদ্যে যায়। তাই দাম বাড়লে শুধু খাদ্য কেনাই কঠিন হয় না; একই টাকার মধ্যে পরিবারকে টানতে হয় আরও নানা প্রয়োজন—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সঞ্চয়—যেগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত হতে থাকে।
এক কারণ নয়, শৃঙ্খলের বহু টান
খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একক কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন ফাহমিদা খাতুন। উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজারের অদক্ষতা, মজুতদারি, সরবরাহ ঘাটতি এবং প্রতিযোগিতার অভাব—সব মিলেই প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে ফড়িয়া, বেপারি, আড়তদারসহ নানা অংশীজন থাকায় প্রতিটি ধাপে মূল্য বদলায়। ফলে উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে আসতে আসতে দামের ব্যবধান বাড়তে থাকে।
খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও ক্রয়ক্ষমতা সংকট
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর। তিনি বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতির পেছনে শুধু উৎপাদন ব্যয় নয়; বাজার কাঠামো, মধ্যস্বত্বভোগী, মজুতদারি, সরবরাহ ঘাটতি এবং বাজারে আধিপত্যও ভূমিকা রাখছে।
সিপিডির আলোচনায় বলা হয়, দেশের প্রায় একটি বড় অংশ এখনও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত মজুরি বাড়তে না পারায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তাই অনেক পরিবার সঞ্চয় ভাঙতে বা ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়—যা দারিদ্র্যের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
কেন এটা প্রবাসী পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স যেমন পরিবারের দৈনন্দিন খরচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তেমনি খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়লে সেই টাকায় আগের মতো কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সিপিডির বক্তব্যে তাই স্পষ্ট—দামের ঊর্ধ্বগতি পরিবারকে শুধু খাদ্যেই থামিয়ে রাখে না, জীবনের সামগ্রিক ব্যয় কাঠামোকেই চাপে ফেলে।
প্রশ্নোত্তর
খাদ্য মূল্যস্ফীতি কার ওপর বেশি চাপ দিচ্ছে? গবেষণার আলোচনায় বলা হয়, ব্যয়ের বড় অংশ খাদ্যে যায়—এমন নিম্নআয়ের মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দাম বাড়ার পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করে? উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজারের অদক্ষতা, মজুতদারি ও প্রতিযোগিতার অভাব—সব মিলিয়ে প্রভাব ফেলে।
দামের প্রভাব শুধু খাদ্যে সীমিত থাকে কি? না। খাদ্যের দাম বাড়লে পরিবারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সঞ্চয়ের মতো ব্যয়ও সংকুচিত হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









