এক বছরে প্রায় ১০ লাখ নতুন গ্রাহক যোগ হয়েছে জনতা ব্যাংকে। ঢাকার মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম এজিএমে ব্যাংকটির এসব অর্জনের হালনাগাদ তুলে ধরা হয়—যা ব্যাংকের গ্রাহকসেবা আর আর্থিক প্রবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট করে।
নতুন গ্রাহক, ব্যাংকিংয়ে গতি

১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় জানানো হয়, গত এক বছরে জনতা ব্যাংক প্রায় ১০ লাখ গ্রাহক পেয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকটির আস্থা-ভিত্তিক সেবা গ্রহণের ধারাও উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসী পরিবারসহ নানা শ্রেণির মানুষ নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেনে আগ্রহী—এ ধরনের সম্প্রসারণ তাদের দৈনন্দিন আর্থিক সুবিধার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
অমানত ও ঋণ বেড়েছে
এজিএমে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে জনতা ব্যাংকের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণ ও অগ্রিম বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার ১১৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ফলে গ্রাহকের সঞ্চয় যেমন ব্যাংকে জমা হচ্ছে, তেমনি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেও ব্যাংকের অর্থায়ন চলছে।
কৃষি, এসএমই ও অগ্রাধিকার খাতে জোর
সভায় আরও জানানো হয়, স্বল্পমেয়াদি ও কম ঝুঁকিপূর্ণ খাত, কৃষি, সিএমএসএমই এবং সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে ঋণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী উদ্যোগগুলো টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের অর্থায়ন প্রবাসী পরিবারগুলোর বিনিয়োগ-চক্রের সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
কার্যক্রমের কিছু সূচক
এজিএমে উল্লেখ করা হয়, আমদানি, রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে যথাক্রমে ১১৪, ৮৮ ও ১০৪ শতাংশ। এছাড়া শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ৬১৪ কোটি টাকা নগদ আদায় হয়েছে বলেও সভায় বলা হয়। লোকসানি শাখার সংখ্যা ৩৮ থেকে কমে ১৮-তে নেমে এসেছে—ব্যাংক পরিচালনায় দক্ষতার ধারাকেও ইঙ্গিত করে।
কর ও সরকারি কোষাগারে জমা
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে জানান, ২০২৫ সালে ব্যাংক করপোরেট আয়কর বাবদ ৭২৪ কোটি টাকা এবং উৎসে কর, ভ্যাট ও আবগারি শুল্ক বাবদ ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। এগুলো ব্যাংকের রাষ্ট্রীয় অবদানের দিকটি সামনে আনে।
প্রবাসী পাঠকের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমদানি-রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের গতি ব্যাংকিং সেবার চাহিদা বাড়ায়। নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়া মানে সেবা বিস্তার—এতে দ্রুত লেনদেন, কিস্তি ব্যবস্থাপনা ও সঞ্চয়ে আগ্রহী মানুষের সুবিধা বাড়তে পারে।
সংক্ষেপে কয়েকটি প্রশ্ন
১) জনতা ব্যাংক কত গ্রাহক পেয়েছে?
সভায় জানানো হয়, এক বছরে প্রায় ১০ লাখ নতুন গ্রাহক পেয়েছে।
২) আমানত কত দাঁড়িয়েছে?
২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।
৩) ঋণ-অগ্রিমের পরিমাণ কত?
ঋণ ও অগ্রিম বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার ১১৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









