প্রণোদনা বা নীতিসহায়তা পেতে এবার এক শর্তই সামনে এসেছে—সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহার না করলে সুবিধা মিলবে না। কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির চাঙা করতে ঘোষিত তহবিলের এই বাস্তবায়ননীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ এর প্রভাব পড়ে ঋণ, ব্যবসার ধারাবাহিকতা এবং চাকরির সম্ভাবনায়।
কাদের জন্য প্রণোদনা, কাদের জন্য শর্ত

বাংলাদেশ ব্যাংক নতুনভাবে বলেছে—আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলা বহাল থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি প্রণোদনা বা নীতিসহায়তার আবেদন করলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। আর এই শর্তটি গ্রাহক পর্যায়েও একইভাবে প্রযোজ্য হবে। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান—দুই দিকেই একই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।
কোন ধরনের মামলা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশনসহ যেকোনো মামলা প্রত্যাহার করলে তবেই নীতিসহায়তার আবেদন বিবেচনা হবে। অর্থাৎ মামলা থাকলে সুবিধা আটকে যেতে পারে—এটাই মূল বার্তা।
৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, লক্ষ্য কর্মসংস্থান
ব্যাংক জানিয়েছে, অর্থনীতি চাঙা রাখতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন করে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের আশা করা হচ্ছে। কিন্তু লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বাধা হিসেবে দেখা দেওয়া মামলাজট কমাতে এবার প্রত্যাহারের শর্ত আরও কঠোরভাবে সামনে আনা হলো।
মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় হলফনামা ও শর্ত বদল নয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রাহকের আবেদন পর্যালোচনার পর ফাইন্যান্স কোম্পানি নীতিগতভাবে সম্মতি দিলে গ্রাহককে আগে মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর প্রত্যাহার করা মামলার তালিকাসহ একটি হলফনামা জমা দিতে হবে। সেখানে স্পষ্ট থাকতে হবে যে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো মামলা অনিষ্পন্ন নেই। হলফনামা পাওয়ার পর গ্রাহকের সুবিধার্থে দেওয়া নীতিসহায়তা বা প্রণোদনার শর্ত পরিবর্তন করতে পারবে না সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি।
কেন এটা প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
অনেক প্রবাসী পরিবার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ঋণ, ব্যবসার বিনিয়োগ বা কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। মামলাজট কমলে ঋণ পুনর্গঠন, ব্যবসা চালু রাখা এবং কর্মসংস্থানের গতি বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। আর যাদের সুবিধা নিতে হবে, তাদের জন্য এখন আগে বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তই টিকে থাকার কৌশল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রশ্নোত্তর
প্রণোদনা পেতে কি মামলা থাকলে হবে?
না। সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন মামলা বহাল থাকলে প্রণোদনা বা নীতিসহায়তা দেওয়া যাবে না।
মামলা প্রত্যাহারের পর কী জমা দিতে হবে?
প্রত্যাহার করা মামলার তালিকাসহ হলফনামা দিতে হবে এবং তাতে অনিষ্পন্ন মামলা নেই—এটি স্পষ্ট করতে হবে।
হলফনামার পর শর্ত বদলাতে পারবে কি ফাইন্যান্স কোম্পানি?
গ্রাহকের সুবিধার্থে দেওয়া নীতিসহায়তা বা প্রণোদনার শর্ত পরিবর্তন করা যাবে না।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









