GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / পেপ্যাল-প্রের মতো পেমেন্টে পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক

পেপ্যাল-প্রের মতো পেমেন্টে পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক

ডিজিটাল ওয়ালেট এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের চিত্র

পেপ্যাল ও পেওনিয়ারের মতো আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন সহজ করার পথ উন্মুক্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে প্রবাসী আয়, অনলাইন কেনাকাটা এবং ফি-পরিশোধ—সবকিছুর ডিজিটাল সুবিধা আরও দ্রুত পৌঁছাতে পারে দেশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কাঠামো

ডিজিটাল ওয়ালেট এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের চিত্র

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। আন্তর্জাতিক সেবামুখী বাণিজ্য সহজীকরণ, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যেই নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে।

ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী ব্যবস্থায় হবে লেনদেন

নতুন নির্দেশনায় ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী কাঠামো’ চালু করা হয়েছে। এর অধীনে দেশের ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য বৈধ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সমাধান প্রদানকারীর সঙ্গে অংশীদারত্ব করে আন্তসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন চালাতে পারবে।

ডিভিএ—গ্রাহকের ডিজিটাল ওয়ালেট, তবে নিয়ন্ত্রণ আলাদা

গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকগুলো ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ)’ নামে ডিজিটাল ওয়ালেট বা স্টোরড-ভ্যালু অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করবে। তবে এগুলো সরাসরি পরিচালিত হবে না। প্রতিটি ডিভিএ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি মাস্টার ডিভিএ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং পৃথক হিসাব সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা পেয়েছে। অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ফেরত বা সমন্বয় করতে হবে।

কারা ব্যবহার করতে পারবেন, কোন খাতে খরচ হবে

ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। অনুমোদিত কোটার আওতায় ব্যক্তিগত, চিকিৎসা কিংবা সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া অনলাইনে ছোট পরিসরের আন্তর্জাতিক কেনাকাটা বা বিভিন্ন ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে।

সুবিধার মধ্যে থাকবে সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট ব্যয়, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের অর্থ পরিশোধ। ইআরকিউ এবং আরএফসিডি হিসাবের বিপরীতে এই সুবিধা নেওয়া যাবে, তবে ইআরকিউ হিসাবধারী প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক ব্যয়ের জন্য ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রবাসী ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনা

ফ্রিল্যান্সার এবং ই-কমার্স উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ আরও সহজে দেশে আনতে পারবেন বলে নির্দেশনায় ইঙ্গিত আছে। বিদেশ থেকে আয় এবং অনলাইন পরিষেবায় খরচ—দুটোর ক্ষেত্রেই ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আগত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরা মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

নতুন সেবা চালুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কারিগরি সক্ষমতা, নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং পরিচালন কাঠামোর বিস্তারিত প্রস্তুতির বিষয়টিও নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে।

যেভাবে প্রভাব পড়বে

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনলাইন পেমেন্ট নির্ভরতা এবং স্থানীয় মার্চেন্টদের আন্তর্জাতিক লেনদেন—দুটিতেই নতুন পথ তৈরি হবে। ব্যাংক-নিয়ন্ত্রিত ডিভিএ কাঠামো থাকায় লেনদেনের নিরাপত্তা ও হিসাবনিকাশের চর্চা জোরালো হতে পারে।

সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর

ডিভিএ কী?
গ্রাহকের ডিজিটাল ওয়ালেট বা স্টোরড-ভ্যালু অ্যাকাউন্ট—যা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

কী কী ক্ষেত্রে ডিভিএ ব্যবহার করা যাবে?
বিদেশ ভ্রমণ, অনলাইনে ছোট কেনাকাটা ও ফি পরিশোধসহ সদস্যপদ, ভিসা প্রসেসিং ও হোটেল বুকিংয়ের মতো খাতে নির্দেশনায় সুবিধার কথা আছে।

এতে প্রবাসীদের লাভ কী?
অনলাইন লেনদেন এবং বিদেশি আয়ের প্রবাহ—দুটোর ক্ষেত্রেই ডিজিটাল সুবিধা বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: arthosuchak.com

Social Icons