GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রবাসের খবর / পর্তুগালে মৃত্যু হলে লাশ পাঠানোর করণীয়

পর্তুগালে মৃত্যু হলে লাশ পাঠানোর করণীয়

পর্তুগালে মৃত্যু হলে করণীয়: হাসপাতাল ছাড়পত্র ও সৎকার প্রক্রিয়া

পর্তুগালে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হলে সবচেয়ে বড় চাপটা পড়ে স্বজনদের ওপর—কাগজপত্র, সৎকার, আর মরদেহ দেশে পাঠানোর আইনি ধাপে। ঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা ধরতে পারলে ভোগান্তি কমে, মানসিক চাপও থাকে নিয়ন্ত্রণে।

হাসপাতাল থেকেই শুরু করতে হয় করণীয়

পর্তুগালে মৃত্যু হলে করণীয়: হাসপাতাল ছাড়পত্র ও সৎকার প্রক্রিয়া

পর্তুগালে অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা হাসপাতালে হয়। তাই স্বজন বা পরিচিতদের শুরুতেই হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির ছাড়পত্র হিসেবে পাসপোর্ট বা বসবাস অনুমোদনের কপি হাতে রাখতে হবে। এগুলো নিয়েই সরাসরি অনুমোদিত সৎকার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

বাংলাদেশিদের জন্য সেবা দেওয়া সৎকার সংস্থা

পর্তুগালে বাংলাদেশিদের জন্য মূলত সেবা দেয়—এমন দুটি সংস্থার তথ্য ব্যবহার করে যোগাযোগ করা যায়। এর মধ্যে ফুনারারিয়া কাপুচোস রয়েছে, লিসবনে রুয়া সোলা সান্তানা, ১১৫০-৩৪৩ ঠিকানায় এবং মার্তি মনিজের কাছে। আরেকটি হলো ফুনারারিয়া আলমেদা

সৎকার সংস্থা সাধারণত হাসপাতাল থেকে মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করে মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদে পাঠায়। এরপর কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রতিনিধি ও ইমাম দাফনের স্থান ও সময় সমন্বয় করেন। মুসলমানদের দাফনের জন্য নির্ধারিত কবরস্থানের তথ্য হিসেবে সেমিতেরিও দ্য কার্নিদে—রুয়া রিও জেজেরে, ১৬০০-৭৫৫ উল্লেখ আছে।

ইসলামি নিয়মে গোসল-কাফন, তারপর জানাজা

সৎকার সংস্থাই সাধারণত হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে আসে। স্বজন বা প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক গোসল ও কাফন সম্পন্ন করে কফিনে রাখা হয়। এরপর নির্ধারিত কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

কফিনের মান ও অন্যান্য সেবার ওপর খরচ নির্ধারিত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ৩৫০ থেকে ৫৫০ ইউরো এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৭০০ ইউরো খরচ পড়তে পারে। যে ব্যক্তি দাফন খরচ বহন করবেন, তিনি পরে পর্তুগালের সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘দাফন খরচ পুনর্বহন’ আবেদন করে অর্থ ফেরত পেতে পারেন।

মরদেহ দেশে পাঠাতে লাগবে আইনি প্রক্রিয়া

পরিবার বা স্বজনরা যদি মরদেহ পর্তুগাল থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চান, তাহলে আইনি অনাপত্তি ও নথি সংগ্রহ করতে হবে। এই কাজে সৎকার সংস্থাই সাধারণত হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে পর্তুগাল নিবন্ধন কার্যালয় থেকে মৃত্যু নিবন্ধিত করায়। পরে লিসবনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করা হয়।

সব কাগজপত্র শেষ হলে সংস্থা বিমানসংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ পরিবহনের টিকিট বুক করে। এরপর হাসপাতাল থেকে মরদেহ এনে গোসল ও কাফন শেষে সংস্থার নিজস্ব স্থান বা কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা সম্পন্ন করে, পরে বিশেষ গাড়িতে বিমানবন্দরে নিয়ে নির্ধারিত বিমানে তুলে দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর থেকে ফ্লাইটে ওঠা পর্যন্ত সাধারণত ৫ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে।

বিমানের টিকিট, কফিন, বিশেষ পরিবহন সেবা, কাফনের কাপড় এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া মিলিয়ে মোট খরচ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ০০০ ইউরোর মধ্যে হতে পারে। খরচ বহন সম্ভব না হলে স্থানীয় কমিউনিটির সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

খরচ ফেরত পেতে যেসব নথি লাগে

দাফন খরচ পুনর্বহন আবেদনে সাধারণত আবেদন ফরম, মৃত্যু সনদ, সৎকার সংস্থার দেওয়া মূল খরচের রসিদ এবং মৃত ব্যক্তি ও অর্থ প্রদানকারীর পাসপোর্ট/বসবাস অনুমোদনের কপি লাগে। পূর্বনির্ধারিত সময়ের ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যালয়ে জমা দিলে সরকার খরচ পরিশোধ করে দেয়।

প্রশ্ন: হাসপাতাল ছাড়পত্র না থাকলে কি হবে?
উত্তর: প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে হাসপাতাল থেকে পাওয়া ছাড়পত্র ছাড়া সৎকার সংস্থার কাজ শুরু করা কঠিন হয়—তাই সংগ্রহ করাই জরুরি।

প্রশ্ন: লাশ দেশে পাঠাতে কি দূতাবাসের অনাপত্তিপত্র লাগে?
উত্তর: হ্যাঁ, সংস্থার মাধ্যমে মৃত্যু নিবন্ধন শেষে লিসবনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অনাপত্তিপত্র নেওয়ার প্রক্রিয়া আছে।

প্রশ্ন: দাফন খরচ ফেরত পাওয়া যায় কীভাবে?
উত্তর: খরচ বহনকারী ব্যক্তি ‘দাফন খরচ পুনর্বহন’ আবেদন করেন; প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে সরকার পরিশোধ করে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons