মহেশখালী উপকূলে পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলেকে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
আদালতের নির্দেশে মিরপুর-১ আশ্রয়কেন্দ্র

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া বাবা-ছেলে এখনো থানা হেফাজতে আছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে তাদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন মিরপুর-১ এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে।
এদিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলেও জানান ওসি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
উদ্ধারের পটভূমি মহেশখালী উপকূলে
এর আগে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় একটি শ্রীলঙ্কান ড্যানিশ বোট থেকে মহেশখালীর উপকূলে বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলেরা। ঘটনাটি শুক্রবার ২৪ জুলাইয়ের রাতে তাদের উপকূলে আনা হয়। এর আগে তারা এক মাসেরও বেশি সময় সাগরে ভাসছিলেন।
বাবা-ছেলে সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা টানা কাঁচা মাছ খেয়ে ২৯ দিন মতো টিকে ছিলেন। তাদের নাম—এস এইচ চামিন্দা ও তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোড এলাকায় তাদের বাসস্থান বলে সূত্রে উল্লেখ করা হয়।
থাকার জায়গা ছিল জেলেদের বাড়িতে
উদ্ধারের পর থেকে তারা মহেশখালী কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার এক বাসায় ছিলেন। ট্রলারমালিক জিয়াউর রহমানের বাড়িতে তাদের থাকার কথা জানা যায়। পরে তারা থানা হেফাজতে আসেন এবং এখন আদালতের আদেশের অপেক্ষা শেষে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি হচ্ছে।
দ্রুত ফিরতে চাওয়ার আকুতি
উদ্ধার হওয়া দুই জেলে ইশারায় নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা দ্রুত দেশে ফিরতে চান বলেও উল্লেখ করা হয়। নিজের নৌকাটিও সঙ্গে নিতে চান—এমন ইচ্ছার কথাও ওঠে। তবে মহেশখালী থেকে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে ওই ছোট নৌকায় এত দূর যাওয়া সম্ভব নয় বলে প্রশাসন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে।
এই ঘটনার মধ্যে জানা যায়, যাত্রা শুরুর পর তাদের খাবার ফুরিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বড়শির টোপ ও সমুদ্র থেকে ধরা কাঁচা মাছ খেয়ে দিন কাটে। পথিমধ্যে কিছু লোক তাদের ট্রলারে উঠেও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় বলেও সূত্রে বলা হয়।
শেষ কথা
থানা হেফাজত শেষে আদালতের নির্দেশে শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলেকে মিরপুর-১ এলাকার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হলে সেখানে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং দূতাবাস সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার পথও আরও পরিষ্কার হবে।
প্রশ্ন-উত্তর
বাবা-ছেলেকে কোথায় নেওয়া হবে?
মিরপুর-১ এলাকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার পরিকল্পনা।
তারা এখন কোথায় আছেন?
ওসি জানান, বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে আছেন।
দেশে ফেরানোর বিষয়ে কী বলা হয়েছে?
দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরাপদ ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









