GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য / জীবনযাপন / স্বাস্থ্য টিপস / ব্যায়ামের সময় নেই? দৈনন্দিন কাজের সামান্য নড়াচড়াতেই মিলতে পারে উপকার

ব্যায়ামের সময় নেই? দৈনন্দিন কাজের সামান্য নড়াচড়াতেই মিলতে পারে উপকার

সারাদিনের ব্যস্ততায় আলাদা করে শরীরচর্চার সময় বের করা অনেকের জন্যই কঠিন। তবে নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য বেশি শারীরিক কর্মকাণ্ড করলেও ভালো মেজাজ ও প্রাণশক্তির সঙ্গে এর ইতিবাচক সম্পর্ক থাকতে পারে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার সাময়িকীতে। গবেষকেরা দেখেছেন, শারীরিক কর্মকাণ্ডের পর মানুষ সাধারণত বেশি ইতিবাচক অনুভব করেন এবং নিজের মধ্যে বেশি শক্তি ও সজীবতা অনুভব করেন।

এর জন্য নিয়মিত কঠোর ব্যায়াম করাই একমাত্র উপায় নয়। হাঁটা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা কিংবা ঘরের কাজের মতো দৈনন্দিন নড়াচড়াও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

‘অ্যান ইন্ডিভিজুয়াল পার্টিসিপেন্ট ডেটা মেটা-অ্যানালাইসিস অব হাউ ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি রিলেটস টু অ্যাফেক্টিভ ওয়েল-বিইং ইন ডেইলি লাইফ’ শীর্ষক গবেষণাটির প্রধান লেখকদের মধ্যে রয়েছেন জোহান্না রেহডার ও মার্কুস রাইখার্ট

গবেষকেরা বিশ্বের ১৪টি দেশের ৬৭টি তথ্যভান্ডার থেকে ৮ হাজার ২২৩ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের মেজাজ ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় স্মার্টফোনভিত্তিক ৩ লাখ ২১ হাজার ৩৪৫টি মেজাজ-সংক্রান্ত মূল্যায়ন এবং যন্ত্রের মাধ্যমে মাপা প্রায় ১০ লাখ ঘণ্টার শারীরিক কর্মকাণ্ডের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এসব তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল।

ফলাফলে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি নিজের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় কিছুটা বেশি সক্রিয় থাকলে তার ইতিবাচক অনুভূতি, মেজাজ ও প্রাণশক্তির সঙ্গে শারীরিক কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা যায়। এর মধ্যে প্রাণশক্তি বা শক্তি অনুভবের সঙ্গে সম্পর্কটি সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট ছিল।

গবেষকেরা আরও দেখতে পেয়েছেন, সম্পর্কটি শুধু শারীরিক কর্মকাণ্ডের পর ভালো লাগার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষ যখন তুলনামূলক ভালো অনুভব করেন, তখন পরবর্তী সময়ে তাদের শারীরিকভাবে সক্রিয় হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ফলাফলকে সরাসরি কারণ-ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না। অর্থাৎ কয়েক মিনিট শারীরিক কর্মকাণ্ড করলেই নিশ্চিতভাবে মন ভালো হবে, গবেষণাটি এমন দাবি করছে না। বরং দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক কর্মকাণ্ড ও মানসিক সুস্থতার মধ্যে ধারাবাহিক ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

যেসব কাজেই হতে পারে ব্যায়ামের বিকল্প

১. কিছুক্ষণ হাঁটা

কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট হাঁটা, কাছাকাছি কোথাও হেঁটে যাওয়া কিংবা ফোনে কথা বলার সময় হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।

২. সিঁড়ি ব্যবহার করা

সম্ভব হলে লিফটের বদলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে দৈনন্দিন চলাফেরার মধ্যেই শরীরের নড়াচড়া বাড়ে।

৩. ঘরের কাজ করা

ঝাড়ু দেওয়া, ঘর মোছা, কাপড় গোছানো, রান্নাঘরের কাজ কিংবা ঘর পরিষ্কারের মতো কাজেও শরীর সক্রিয় থাকে।

৪. কাছাকাছি কাজে হেঁটে যাওয়া

বাজার, দোকান বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় জায়গা কাছাকাছি হলে যানবাহনের বদলে হেঁটে যাওয়া যেতে পারে।

৫. দীর্ঘ সময় বসে না থাকা

কাজের মধ্যে দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে কিছুক্ষণ পরপর উঠে দাঁড়ানো, একটু হাঁটাহাঁটি করা বা ছোটখাটো কাজ করা যেতে পারে।

৬. পরিবারের সঙ্গে সক্রিয় থাকা

শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাঁটাহাঁটি করা কিংবা বাইরে কিছুক্ষণ সময় কাটানোও শরীর সচল রাখার সুযোগ তৈরি করে।

অর্থাৎ শরীরচর্চার জন্য সব সময় আলাদা করে দীর্ঘ সময় বের করতে না পারলেও দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই শরীরকে কিছুটা বেশি সক্রিয় রাখা সম্ভব। ছোট ছোট এসব নড়াচড়া নিয়মিত জীবনের অংশ হলে তা শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো অনুভূতির সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।

Social Icons