চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় সাক্ষ্য দিতে হাজির না হওয়ায় প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
সিএমপির পক্ষ থেকে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে পাঠানো ১৮টি চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯টায় আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অনেক পুলিশ সদস্যকে একাধিকবার সমন ও পরোয়ানা পাঠানোর পরও তারা হাজির হননি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বেশ কিছু মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ।
সাক্ষীদের মধ্যে কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তাদের কেউ বর্তমানে চট্টগ্রামে, আবার কেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, ঢাকা ও অন্যান্য জেলায় কর্মরত। অনেকে সিআইডি, পিবিআই, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও এসবির মতো বিশেষ ইউনিটেও দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া হত্যা, গুরুতর অপরাধসহ বহু মামলায় এসব সদস্য সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন। ২০২২ সালের একটি হত্যা মামলাতেও পুলিশ সাক্ষীদের হাজির করতে না পারায় বিচারকাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে।
সিএমপির কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, এসব পুলিশ সদস্য আসামি নন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাদের তলব করা হয়েছে। বদলি, অসুস্থতা, সমন যথাসময়ে না পাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট সাক্ষীর মৃত্যুর কারণেও অনেকে আদালতে হাজির হতে পারেননি।
এদিকে নোয়াখালীতেও ১২১ জন পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ সদস্যদের বদলি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সমন অনেক সময় পুরোনো কর্মস্থলে পৌঁছে যায়। এতে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুলিশ সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।








