GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট চলাচল শুরু

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট চলাচল শুরু

পুরাতন রানওয়ের সংক্ষিপ্ততা ও অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মেগা প্রকল্পের অংশ হিসেবে সদ্য নির্মিত নতুন আন্তর্জাতিক মানের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে সফলভাবে পরীক্ষামূলক (ট্রায়াল) কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন এই নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সমুদ্রঘেঁষা কক্সবাজারের ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক রূপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্মিত টার্মিনালটির ছাদ তৈরি করা হয়েছে বিশালাকার ঝিনুক অবয়বে, যার ওপরের স্টিল কাঠামোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের নকশা। দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাটি চালুর ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভিড় অনেকটাই লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশন কতৃপক্ষ।

সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য এয়ার কমোডোর মো. নূর-ই-আলম জানান, “পুরাতন ছোট টার্মিনালে একটি ফ্লাইটের বিপরীতে ৪শ’ থেকে ৫শ’ যাত্রী হলে স্থান সংকুলান হতো না। নতুন টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে হলেও আপাতত এর ধারণক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা ও কারিগরি কোনো ত্রুটি রয়েছে কি-না তা যাচাই করতে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।”

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার সুবিশাল আয়তনের এই আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটি নির্মাণে আনুমানিক ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্মিত এই ভবনে রয়েছে:

  • চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন: ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার এবং ১০টি আধুনিক ইমিগ্রেশন ডেস্ক।
  • লাগেজ ও নিরাপত্তা: ২টি আধুনিক ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট, ৭টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিকিউরিটি স্ক্যানার, মেটাল ডিটেক্টর এবং প্রথক হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিং ব্যবস্থা।
  • যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা: ৪টি আধুনিক এস্কেলেটর, ৬টি লিফট, বোর্ডিং ব্রিজ এবং অটোমেটেড লাগেজ হ্যান্ডলিং সুবিধা।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদির টেস্ট ও কমিশনিং শেষে উন্মুক্ত করা এই নতুন টার্মিনালে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী নির্বিঘ্নে সেবা নিতে পারবেন।

নতুন টার্মিনালটি চালুর পদক্ষেপে দারুণ উচ্ছ্বসিত সাধারণ যাত্রী ও এয়ারলাইন্স পরিচালনাকারীরা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস) মো. কামরুল ইসলাম জানান, এটি দেশের সার্বিক এভিয়েশন খাতের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও মাইলফলক উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, বিশ্বের দীর্ঘতম ১২০ কিলোমিটার প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি যাতায়াত নিশ্চিত করতে এর আগে ৬ হাজার ফুটের পুরনো রানওয়েকে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়, যা সমুদ্রের বুক স্পর্শ করেছে। সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত থেকে কক্সবাজারকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

Social Icons