GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / দোকান থেকে বাড়ি, সবখানেই চাঁদা! | নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিস্ফোরক বক্তব্য

দোকান থেকে বাড়ি, সবখানেই চাঁদা! | নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিস্ফোরক বক্তব্য

দোকান থেকে বাড়ি, সবখানেই চাঁদা! | নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিস্ফোরক বক্তব্য

শ্রমজীবী মানুষের উপার্জন থেকে চাঁদা আদায় বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে ৫০০ টাকা আয় করার পর সেখান থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা হিসেবে নিয়ে গেলে শুধু তার টাকা নয়, পরিবারের প্রয়োজনও থেমে যায়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

৫০০ টাকা শ্রমজীবী মানুষের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে একজন শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, একজন মানুষ সারাদিন রোদে পুড়ে ও ঘাম ঝরিয়ে ৫০০ টাকা আয় করেন। এই অর্থ দিয়েই তার সন্তানের দুধ, স্কুলের খাতা কিংবা বৃদ্ধ বাবার ওষুধ কেনার মতো প্রয়োজন মেটাতে হয়।

সেই আয়ের ২০০ থেকে ৩০০ টাকা যদি চাঁদাবাজির মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে শুধু একজন মানুষের অর্থই কমে যায় না। তার পরিবারের কোনো একটি প্রয়োজনও সেদিন অপূর্ণ থেকে যায়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কারও কাছে ৫০০ টাকা সামান্য মনে হলেও সারাদিনের ঘামের বিনিময়ে পাওয়া এই অর্থ একজন শ্রমজীবী মানুষের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

দোকান থেকে বাড়ি, সর্বত্র চাঁদার অভিযোগ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে চাঁদাবাজির বিস্তারের কথাও তুলে ধরেছেন।

তিনি লেখেন, দোকান বসাতে গেলে চাঁদা, ব্যবসা করতে গেলে চাঁদা, গাড়ি চললেও চাঁদা দিতে হয়। এমনকি বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও চাঁদা দাবি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার মতে, এই অর্থ আদায়ের সঙ্গে যখন রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা প্রদর্শন যুক্ত হয়, তখন সাধারণ মানুষের ওপর অপমান ও চাপ আরও গভীর হয়।

চাঁদার টাকা কোথায় যায়, প্রশ্ন পাটওয়ারীর

পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায় করা অর্থ শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ বিভিন্ন ধাপে ভাগ হয়ে ওপরের পর্যায়ের নেতাদের কাছেও পৌঁছে যায়।

তিনি মনে করেন, এ ধরনের চাঁদাবাজি শুধু মানুষের পকেট থেকে অর্থ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে মানুষের শ্রম, পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকারও জড়িয়ে রয়েছে।

সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে ‘নব্য চাঁদাবাজদের’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি এলাকায় এলাকায় চাঁদাবাজবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য হলো, একজন শ্রমজীবী মানুষ যেন সারাদিনের পরিশ্রমের পর নিজের উপার্জনের টাকা নিরাপদে পরিবারের কাছে নিয়ে যেতে পারেন।

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার বার্তা

পাটওয়ারীর বক্তব্যে চাঁদাবাজির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এর সামাজিক প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

তার মতে, একজন বাবার দিনের উপার্জন যখন চাঁদাবাজির কারণে কমে যায়, তখন তার সন্তান, পরিবার ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এলাকাভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

Social Icons