কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কোটবাড়ি বাগমারা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দাফনে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
বন্ধুকে হারিয়ে কান্নায় সহপাঠীরা
অপ্রতিমের শেষ বিদায়ে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহপাঠীরা। প্রিয় বন্ধুকে আর কখনো ক্লাসে দেখতে পাবেন না, বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।
অপ্রতিমের বন্ধু নাসিম বলেন, ‘আমার বন্ধুকে আর ক্লাসে দেখবো না। এই অনুভূতিটা আসলে বলে বোঝানোর মতো না।’ একই সঙ্গে তারা আর কোনো বন্ধুকে হারাতে চান না বলেও জানান।
অন্য এক বন্ধু বলেন, বৃহস্পতিবার কোরআনিক ক্লাবের সময় অপ্রতিমের সঙ্গে তার শেষ দেখা ও কথা হয়। সেদিন তারা একসঙ্গে কোরআনিক ক্লাবের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফুটবলও খেলেছিলেন।
আরেক বন্ধু শেষ কথোপকথনের স্মৃতি মনে করে বলেন, তিনি অপ্রতিমকে ফুচকা খেতে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। অপ্রতিম জানিয়েছিল, সে ফুচকা খাবে না, কারণ তার কাছে টাকা নেই। সেটিই হয়ে আছে বন্ধুর সঙ্গে তার শেষ কথোপকথন।
‘কে জানত, সেটাই শেষ দেখা’
অপ্রতিমের আরেক বন্ধু জানান, শুক্রবারও অপ্রতিম তাদের সঙ্গে নামাজ পড়েছিল। নামাজ শেষে সে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে চলে যায়।
বন্ধুটির ভাষায়, ‘কে জানত, সেটাই শেষ দেখা।’
তদন্ত ও বিচারের দাবি
বন্ধুরা অপ্রতিমের মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, একজন বন্ধুকে হারানোর প্রভাব শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তার বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও একজনকে হারায়।
তারা বলেন, অপ্রতিমের সঙ্গে যা ঘটেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এমন শোকের মধ্য দিয়ে যেতে না হয়, সেই প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তারা।
দাফন শেষে অপ্রতিমের বন্ধুদের কণ্ঠে ছিল প্রিয় বন্ধুকে হারানোর গভীর শোক এবং ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি।


