GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / স্বামীকে নিয়ে দুই নারীর চুল ধরে টানাটানি, রাজারহাটে চাঞ্চল্য

স্বামীকে নিয়ে দুই নারীর চুল ধরে টানাটানি, রাজারহাটে চাঞ্চল্য

স্বামীকে নিয়ে দুই নারীর চুল ধরে টানাটানি রাজারহাটে চাঞ্চল্য

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক স্বামীকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে চুল ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরে স্থানীয়রা দুই নারীকে সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার কেন্দ্রের ব্যক্তি লিটন সরকার রাজারহাট উপজেলার পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের ছেলে। তিনি ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

একজনকে স্বামী দাবি দুই নারীর

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন সরকারকে নিজের স্বামী দাবি করে দুই নারীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত।

দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন, লিটন তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। এ সংক্রান্ত তালাকনামা তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে প্রথম স্ত্রী দাবি করছেন, তাকে তালাক দেওয়া হয়নি এবং লিটন দ্বিতীয় বিয়েও করেননি।

বাসস্ট্যান্ডে শুরু হয় মারামারি

এ নিয়ে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারীর মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হকের ভাষ্য, দুজনেই মারামারি করছিলেন। এ সময় তারা একে অপরকে বলছিলেন, ‘তোকে তালাক দিয়েছে লিটন।’

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দুই নারীকে থামিয়ে গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন মেম্বারের জিম্মায় দেন। পরে তাদের চায়না বাজার এলাকায় নিয়ে গেলে সেখানেও উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য

গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন বলেন, তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী মারামারি করছে শুনে সেখানে যাই। পরে দুজনকেই চায়না বাজারে নিয়ে আসি। তারা দুজনেই লিটনের বউ বলে দাবি করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের আমার জিম্মায় রাখা হয়।

গোকুন্ডা ইউনিয়নের মিঠু মিয়া বলেন, বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী চুল ধরে মারামারি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের ঝগড়া থামিয়ে নিয়ে আসেন।

দ্বিতীয় স্ত্রীর দাবি কী

লিটনের দ্বিতীয় স্ত্রী জানান, লিটনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, লিটন ঢাকায় নেই। পরে লিটন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতেই তিনি সেখানে আসেন বলে দাবি করেন।

তার দাবি, লিটন তাকে বলেছিলেন যে তিনি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। সেটি যাচাই করার জন্যই তিনি সেখানে এসেছেন। এ সংক্রান্ত তালাকনামা তার কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, এর আগে তার একটি সংসার ছিল এবং সেটি ত্যাগ করে লিটনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ও ইন্টার্নি করা ব্যক্তি বলেও লিটন পরিচয় দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বিয়ের বিষয় স্বীকার করেছেন লিটন

অন্যদিকে লিটন সরকার বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে দুই নারীর মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনাটি নিয়ে চায়না বাজারসহ রাজারহাটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ এটিকে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টির আইনগত ও সামাজিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

Social Icons