GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / খুঁটি আছে, বিদ্যুৎ নেই আলীকদমের পাঁচ গ্রামে

খুঁটি আছে, বিদ্যুৎ নেই আলীকদমের পাঁচ গ্রামে

মাথার ওপর দিয়ে বিদ্যুতের মূল লাইন চলে গেছে। গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটিও। কিন্তু বাড়িঘরে নেই প্রয়োজনীয় শাখা সংযোগ। ফলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের যোগেন্দ্র পাড়া, যোগেন্দ্র কারবারী পাড়া, বসুদেব পাড়া, সাইয়ে ম্রো পাড়া ও রোহিনীমোহন কারবারী পাড়ার বাসিন্দাদের বড় অংশ এখনো সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, চেরাগ কিংবা মুঠোফোনের আলোয় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুতের খুঁটি ও মূল লাইন স্থাপনের জন্য ২০২৪ সালে প্রায় ৬০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এরপর এলাকায় মূল বিদ্যুতের লাইন গেলেও বাড়িঘরে সংযোগ দেওয়ার জন্য শাখা-প্রশাখা লাইন স্থাপন করা হয়নি। শাখা লাইন ও মিটার দেওয়ার জন্য আবার ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

যোগেন্দ্র পাড়ার বাসিন্দা সঞ্জিতা তংচঙ্গ্যা বলেন, গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি ও মূল লাইন এসেছে। কিন্তু বিদ্যুতের কর্মীরা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করায় তিনি ঘরে সংযোগ নিতে পারেননি। অর্থের সামর্থ্য না থাকায় তাকে মোবাইলের আলো ব্যবহার করতে হচ্ছে।

চার বছর বয়সী শিশু পমি তংচঙ্গ্যার খাবার খাওয়ার সময়ের একটি দৃশ্যেও তাদের এই দুর্ভোগ ফুটে উঠেছে। মুঠোফোনের আলোয় শিশুটির মুখ দেখা যাচ্ছিল। এক হাতে মোবাইল ধরে অন্য হাতে খাবার খাচ্ছিল সে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অংচিংনু তংচঙ্গ্যা জানান, তার দোকান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি প্রায় ১০০ গজ দূরে। সামনে বিদ্যুতের আলো দেখা গেলেও দোকানে এখনো সংযোগ নেই। ফলে তিনি দুই বছর ধরে সোলারের আলো ব্যবহার করে ব্যবসা করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নয়াপাড়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে তিন শতাধিক পরিবারের বসবাস। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুতের অবকাঠামো তৈরি হলেও বাড়িঘরে সংযোগ না থাকায় সন্ধ্যার পর তাদের নতুন করে অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ২০০টি বাড়ির মধ্যে মাত্র চারটি বাড়িতে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। বাকি বাড়িগুলোতে সোলার ও চেরাগের আলো ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরও সোলারের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

যোগেন্দ্র কারবারী পাড়ার চিংচাহ্লা তংচঙ্গ্যা বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ আনতে কর্মচারীদের ৬০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এরপর মূল লাইন এলেও শাখা-প্রশাখা দেওয়া হয়নি। এখন শাখা লাইন দিতে আবার ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রঞ্জন তংচঙ্গ্যার অভিযোগ, বিদ্যুতের মিটার ও শাখা-প্রশাখা লাইন নিতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে বলা হচ্ছে। তার ভাষ্য, এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র হওয়ায় এত টাকা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

নয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালে যোগেন্দ্র পাড়ায় বিদ্যুতের তার গেছে, তবে শাখা-প্রশাখা না থাকায় অনেকেই সংযোগ নিতে পারছেন না। মিটার নিতে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন টাকা চাইছে বলেও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে লামা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জাকির হোসাইন বলেন, কেউ টাকা চাইলে অফিসে এসে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, ওই এলাকার নাম তিনি শুনেছেন, তবে সেখানে এখনো যাওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ লাইন বা শাখা-প্রশাখা দেওয়ার প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো কর্মচারী টাকা চাইলে সরাসরি অফিসে এসে অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Social Icons