ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও জোরালো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর আগের দিনের ইরানের হামলা চেষ্টার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে ইরানের লক্ষ্যবস্তুর দিকে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রের বর্ণনায় হামলার সময় কেশম, কিশ, বন্দর আব্বাস, আবাদান ও বুশেহর এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কারা হামলার নেপথ্যে দায়ী—তাৎক্ষণিকভাবে সেটি নিশ্চিত করা যায়নি।
সেন্টকমের ভাষ্য: হামলা চেষ্টার জবাব

সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর আগের দিন ইরানের হামলার চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে। ফলে, অঞ্চলে আগের পাল্টাপাল্টি হামলার ধারার মধ্যেই নতুন করে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
একই সময়ে অন্য এলাকা-ঘটনাও
এই সময়সীমার মধ্যেই আরও কয়েকটি ঘটনাও শোনা যাচ্ছে। মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে অ্যামব্রে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি বাহিনী পূর্ব ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। আবার জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথাও এসেছে।
ইরানের পাল্টা অবস্থান
অন্যদিকে ইরান বলেছে, তারা জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যৌথভাবে পরিচালনার জন্য ওমানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথাও জানিয়েছে তেহরান।
প্রবাসীদের জন্য কেন এটি জরুরি
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই ধরনের দ্রুত পাল্টাপাল্টি ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে দৈনন্দিন জীবন—চাকরি ও ব্যবসার পরিবেশ, ভ্রমণের নিরাপত্তা, আর জ্বালানি ও পণ্যের দাম। উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও অনিশ্চয়তা বাড়ায় প্রত্যাশিতভাবেই খরচ ও পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে।
সংঘাত কি আরও ছড়াবে?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও মিসরে সাম্প্রতিক হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এর আগে হুথি গোষ্ঠীর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার ঘটনাও ছিল আলোচনায়। ফলে, সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধান কতটা দ্রুত এগোয়—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
প্রশ্ন: সেন্টকম হামলার কারণ হিসেবে কী বলেছে?
উত্তর: মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর আগের দিনের ইরানের হামলা চেষ্টার জবাব বলে উল্লেখ করেছে।
প্রশ্ন: হামলার সময় ইরানের কোন কোন এলাকায় বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কেশম, কিশ, বন্দর আব্বাস, আবাদান ও বুশেহর এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা এসেছে।
প্রশ্ন: প্রবাসীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে?
উত্তর: নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা, যাতায়াত ঝুঁকি এবং জ্বালানি-দামের ওঠানামা—এসবের মধ্য দিয়ে দৈনন্দিন খরচ ও পরিকল্পনায় চাপ পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









